
॥ মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥
[dropcap] মোং [/dropcap] লার মিঠাখালীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল গোলদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলায় বাবা ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এই সন্ত্রাসী হামলার বিচার ও আসামিদের দ্রæত গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার দুপুরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় আসামীদের দ্রæত গ্রেফতার ও মুল অভিযুক্ত সন্ত্রাসী সাইফুল গোলদারকে দল থেকে প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়।
জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রয়ারি রাতে মিঠাখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এই বর্বরোচিত একজ হামলা, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল গোলদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলায় বাবা ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয় কিন্ত এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান আসামি সাইফুল গোলদার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর ভোল পাল্টে তিনি বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং আগের মতোই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার হাতে এলাকার নিরিহ বহু নারী ও পুরুষ ইতিপূর্বে নির্যাতিত হয়েছেন বলে মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন।
এ ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করে বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ কয়েকশ এলাকাবাসী অংশ নেন। এসময় ছোট ছোট শিশুরাও এ কিক্ষোভ কর্মসুচি ও মানববন্ধনে অংশ নেয়। উপস্থিত নারী-পুরুষ ও শিশুরা মুল পরামর্শদাতা সাইফুল গোলদারসহ সকল আসামিকে দ্রæত গ্রেফতারের দাবি জানান। একইসাথে নতুন যোগদান করা সাইফুল গোলদারকে বিএনপি দল বহিষ্কারের দাবি তোলেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাইফুল গোলদারের সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, মামলা করার পর থেকে সাইফুল ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ফলে তারা বর্তমানে নিজ বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। যে কোন মুহুর্তে পুনরায় এমন হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংঙ্কা প্রকাশ করছে ভুক্তভোগীরা।
মোংলা থানার ওসি তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, গত ১৯ ফেব্রæয়ারী মিঠাখালী এলাকায় মারামারীর ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে, যত দ্রæত সম্ভব তাদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।