
॥ আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥
[dropcap] সি [/dropcap] রাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সনদ দিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক অভিভাবক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “সনদ প্রস্তুত করতে কাগজপত্র ও অন্যান্য খরচ হয়েছে। সে কারণেই কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে কাউকে জোর করা হয়নি, অভিভাবকেরা স্বেচ্ছায় দিয়েছেন।”
তবে অভিভাবকদের দাবি, এটি স্বেচ্ছা নয়; বরং সনদ পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চলতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তান পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য সনদ নিতে গেলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৫০- ২০০ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সনদ দিতে গড়িমসি করা হয়—এমন অভিযোগও করেন কেউ কেউ। এক অভিভাবক বলেন, “সরকারি স্কুলে পড়ালেখা করলেও এখন সনদ নিতে টাকা দিতে হচ্ছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি, সনদ বা অন্য কোনো সেবার জন্য অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণ ফি-মুক্ত রাখতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “সনদ প্রস্তুত করতে কাগজপত্র ও অন্যান্য খরচ হয়েছে। সে কারণেই কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে কাউকে জোর করা হয়নি, অভিভাবকেরা স্বেচ্ছায় দিয়েছেন।”
তবে অভিভাবকদের দাবি, এটি স্বেচ্ছা নয়; বরং সনদ পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সনদ দিতে কোনো ধরনের অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। বিষয়টি সম্পর্কে অভিভাবকেরা আমাদের জানিয়েছেন। খোজ খবর নিয়ে জেনেছি। অভিভাবকদের বাধ্য করেই টাকা আদায় করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকতাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্হা নেয়া হবে।