
॥ আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি ॥
[dropcap] গ [/dropcap] নপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমূদ খৈয়ম ( এমপি)
মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলন, সাবরেজিস্টার অফিসে চাঁদাবাজি, হাসপাতালে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে তিনি ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, এক সপ্তাহ সময় দিলাম—এই সময়ের মধ্যে মাদকের ব্যবসা ছেড়ে ভালো হয়ে যান। তা না হলে এ জেলায় মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ও দালালচক্রের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করা হবে। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও বিনা পয়সায় চিকিৎসা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসীর হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মুন্জুরুল আলম দুলাল, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা, উপজেলা বিএনপি সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, প্রবীণ বিএনপি নেতা রোস্তম আলী মোলা, জেলা বিএনপির সদস্য এ্যাড: এবিএম ছাত্তার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ আহাম্মদ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল হাসান ইদ্রিস, পৌর সভাপতি আবুল কাশেম মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মোল্লা মজি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাজিউর রহমান রাসেল, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মো: ফারুক দেওয়ান, সদস্য সচিব সানোয়ার আহাম্মদ, পৌর যুবদলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন মন্ডল,উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল হাসান মিঠু সহ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, আমি জানি কারা মাদকের সঙ্গে জড়িত। তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে আসে, ফুল দেয়। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে জেলার প্রতিটি এলাকা আমার নখদর্পণে। তাই কাউকে আড়াল করার সুযোগ নেই সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজের জায়গা হবে না।
তিনি আরও বলেন, এখনও সময় আছে—স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুন। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, চাঁদাবাজির দায় কে নেবে? এ দায় আমি কেন নেব? যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁদাবাজির বিষয়ে ‘কোনো ছাড় নয়’—এমন কড়া হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সভায় গোয়ালন্দের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি একটি শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান, যাতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।
চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চর এলাকার কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। কৃষি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি চালু এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। চরাঞ্চলকে একটি সম্ভাবনাময় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান।
স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ও দালালচক্রের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করা হবে। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও বিনা পয়সায় চিকিৎসা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতদিয়ায় ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে একটি নৌবন্দর স্থাপন করা যায় কিনা তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। নৌবন্দর স্থাপিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়লে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং এ অঞ্চল জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোয়ালন্দে যদি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয় তাহলে এ অঞ্চল দেশের সবচেয়ে উর্বর ও সম্ভাবনাময় এলাকায় পরিণত হবে। রেল সংযোগ চালু হবে। আর রেল সংযোগ চালু হলে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র ২০ মিনিট। তখন রাজবাড়ী কার্যত ঢাকারই অংশ হয়ে যাবে।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, চরাঞ্চলের অবকাঠামোগত সমস্যা ও জনসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং আগামী তিন মাসের কর্মপরিকল্পানা তৈরি করে উন্নয়ন মূলক কাজ করা হবে বলে জানান।