Sunday , 30 November 2025

গড়াই নদীর খনন কাজ ‘জবরদখল ও হাইজ্যাক’—সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদারের অভিযোগ

॥  আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি ॥

রা জবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন গড়াই নদী খননের কাজ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বৈধভাবে পাওয়ার পরও একটি মহল বে-আইনিভাবে কাজটি জবরদখল বা ‘হাইজ্যাক’ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজবাড়ীর ঠিকাদার মোঃ আবুল হাসেম সুজন।

তিনি বলেন, প্রায় ১ মাস ১১ দিন ধরে চঞ্চলের সাথে সামাজিকভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এরপরও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে রাজবাড়ীর আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করেন। আদালত গত ২২ অক্টোবর মামলাটি গ্রহণ করেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের পান্না চত্বর পৌর নিউ মার্কেটের দোতলায় তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পক্ষে দরপত্র দাখিলকারী হিসেবে বৈধভাবেই তিনি কাজটি পান। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই তিনি একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ছয় মাস কারাবন্দী ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে কাজে ফেরার পর জানতে পারেন তার এই কাজের পার্টনার মাজাহারুল আলম চঞ্চল মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিংকে ভুলভাল বুঝিয়ে তাকে এই কাজ থেকে বাদ দিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। যে কারনে তিনি পার্টনারশিপ চুক্তি অনুযায়ী আমার সাথে কোনো সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।।

তিনি বলেন, প্রায় ১ মাস ১১ দিন ধরে চঞ্চলের সাথে সামাজিকভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এরপরও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি চঞ্চলকে প্রধান আসামি করে রাজবাড়ীর আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা করেন। আদালত গত ২২ অক্টোবর মামলাটি গ্রহণ করেন।

সুজন অভিযোগ করে বলেন, তাঁর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বেআইনিভাবে মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পক্ষে চঞ্চলকে দুই দফায় দুইটি চলতি বিল প্রদান করেছে, যা আইনবিরোধী ও অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর ১১ নভেম্বর চঞ্চল নিজ উদ্যোগে আপোষে যেতে চান এবং আলোচনার স্থান হিসেবে রাজবাড়ী ক্লিনিক নির্ধারণ করেন। সেখানে বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন সুমনের কাছে চঞ্চল তাঁর বিনিয়োগের হিসাব দাখিল করেন।

সুজন দাবি করেন, হিসাব যাচাই করে তিনি প্রায় ২ কোটি টাকার অনৈতিক খরচ শনাক্ত করেন। আমি তার প্রকৃত বিনিয়োগের অর্থ পরিশোধ করার প্রস্তাব দিলেও চঞ্চল তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুনরায় বে-আইনিভাবে কাজ দখলের চেষ্ট করে যাচ্ছেন।

সুজন অভিযোগ করেন, “চঞ্চল এখন একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহায়তায় জোরপূর্বক নদী খনন কাজটি দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি প্রকল্পের উদ্বোধনের নাটক সাজানোর অপচেষ্টাও চলছে।” সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অনিয়ম ও জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিকার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকল্প পুনরুদ্ধারের দাবি জানান।

প্রকল্পের বিবরণে তিনি জানান, সিএসএডব্লিউএম প্রকল্পের আওতায় এবং ওএম ডিভিশন, বিডব্লিউডিবির বাস্তবায়নে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই নদীর চর ড্রেজিং ১১.১৫৯ থেকে ১৩.৬৫০ পর্যন্ত মোট ২.৫০ কিলোমিটার এবং ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলা অংশে গরিদহ খালের পুনঃখনন ৩.২৫০ কিলোমিটার। যার টেন্ডার আইডি নং ই- ১০১৭০২২, কন্ট্রাক্ট নং ১৫১৪ এবং অর্থ মূল্য ৮ কোটি ৬৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৪৩ টাকা।

Check Also

সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় পৌছেছে সরকারি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও ভূমি সেবায় গতি ফিরেছে

॥  মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥ দে শের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় দুর্গম অঞ্চল এখন উচ্চগতির …