৫ আগস্টের পর ভাগ্য খুলে যায় রিয়াদের যেন পেয়েছিল আলাউদ্দিনের চেরাগ


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

শেখ শহিদুল ইসলাম মিঠু 
ব্যুরো প্রধান খুলনা



ঢাকার গুলশানে আওয়ামীলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা।

পুলিশ জানায়, পরে আরো ও ৪০ লাখ টাকা দাবি করলে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

গুলশান থানা পুলিশের অভিযানে গত শনিবার রাতে সংগঠনটির সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ন আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক সোলায়মান রিয়াদ সহ ৫,জনকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের মধ্যেও চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া অনুমতি দিয়েছেন আদালত, ওপর একজনের বয়স কম হওয়ায় তাকে পাঠানো হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে।


কিভাবে আদায় করা হয় চাঁদা--

১৭-,জুলাই সকাল ১০ টার দিকে পলাতক আসামি থাকার তথ্য দিয়ে শাম্মী আহমেদের বাসায় পুলিশ নিয়ে যান রিয়াদ ও তার সহযোগীরা, নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরি করেন, যদিও সেদিন কোন পলাতক আসামিকে পাওয়া যায়নি, এরপর পুলিশের উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে শাশ্মীর স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় করেন।

এ বিষয়ে সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় করা মামলায় উল্লেখ করেন, প্রথম দফায় নিজের কাছে থাকা ৫ লাখ এবং ভাইয়ের থেকে ধার নিয়ে আরো ৫ লাখ টাকা দেন রিয়াদ ও অপুকে।

আবারো ও ৪০ লাখ টাকা দাবিঃ

চাঁদা দেওয়ার পরও থেমে থাকেনি চক্রটি,১৯ জুলাই দ্বিতীয় দফায় বাসায় এসে আরো ও টাকা দাবি করে তারা, সর্বশেষ গত শনিবার ও তারা আবার গিয়ে ৪০ লাখ টাকা দাবি করে এবং না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, সে সময় গুলশান থানা পুলিশ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে, কাজী গৌরব ওরফে অপু পালিয়ে যায়।

পুলিশে যা বলছে,,

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এই ছেলেরা ভয় দেখানোর জন্য পুলিশকে ট্রাম কার্ড বানিয়েছে, পুলিশকে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছে, আমরা কিন্তু আপনাকে যখন তখন ধরিয়ে দিতে পারি, তারপর তিনি টাকা দেন, এরপর আমরা নজরদারি বাড়িয়ে হাতেনাতে ধরেছি।

রিমান্ডে ৪,জন একজন কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে মামলায় রিয়াদ, সাকদাউন সিয়াম, সাদমান সাদার, ইব্রাহিম হোসেন ও আর ও একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, ইব্রাহিম ঢাকার কমিটির আহবায়ক এবং সিয়াম ওসাদার সদস্য, আদালত চার জনকে সাত দিনের রিমান্ড এবং একজনকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

জুলাই চেতনা থেকে চাঁদাবাজি পর্যন্ত।

রিয়াদ আগে কাদের মির্জার ক্যাডার ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সূত্র জানাই ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের  পর তার জীবনযাত্রার বড় পরিবর্তন আসে, দামি ব্র্যান্ডের পোশাক, গ্রামের পাকা বাড়ির নির্মাণ এবং কোরবানিতে লাখ টাকা দামের গরু সব মিলিয়ে তার বিত্ত-বৈভব নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়।

নোয়াখালী সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে রিয়াদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা গেছে, সেখানে তিনি একতলা একটি পাকা ভবন নির্মাণ করছেন, যার ছাদ ঢালাই শেষ হয়েছে মাত্র, প্রকৌশলীরা জানান, এ পর্যন্ত কাজ করতে খরচ হতে পারে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

রিয়াদের গ্রামে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়, তারা বলেন আর্থিক অনটনের মধ্য বেড়ে ওঠা একজন ছাত্রের বাড়িতে হঠাৎ পাকা ভবন নির্মাণ নিয়ে এলাকায় নানা‌‌ আলোচনা চলছে ,এ আলোচনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগের রিয়াদের গ্রেফতারের ঘটনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রিয়াদের এক চাচী গণমাধ্যমকে বলেন, রিয়াদের বাবা ও বড় ভাই দুজনই রিকশা চালাতেন, এখন চালান না রিয়াদ ঢাকার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে  পড়ালেখা করেন বলে শুনেছেন।

আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার, রিয়াদের মা রিয়াদের মা রেজিয়া বেগম জানান, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে ছোট ছেলে রিয়াদ ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়েন, বড় ছেলে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তবে বড় ছেলে ফুটপাতে ব্যবসা করেন, এমন কথাও বলেন রেজিয়া বেগম, 

তিনি আরো ও বলেন, ছোট ছেলেকে মানুষের সাহায্যে ঢাকায় পড়াতে পাঠিয়েছেন, বাড়ির নির্মাণের ব্রাক থেকে ঋণ নিয়েছেন, স্বামীর জমানো টাকা ও ব্যবহার করেছেন, তার দাবি ছেলে নিরপরাধ, ষড়যন্ত্রের শিকার।

প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা, 

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা, তিনি লিখেছেন, এই প্রথম পুলিশের হাতে ধরা খেলো ওরা, অথচ ওদের শিকড় আরো ও গভীরে।

পুলিশ বলছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই অংশটি এখন একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রে রূপ নিয়েছে, যেসব তরুণ ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয় বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করত তারা এখন চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ