পিরোজপুরে বহুমুখী অপরাধে অভিযুক্ত এনামুল হক লিটন: আতঙ্কে স্থানীয়রা
গ্লোবাল সংবাদ
- প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
বিশেষ প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার পূর্ব বানিয়ারী গ্রামের মৃত ইউনুস আলী শেখের পুত্র চাকুরিচ্যুত সেনা সদস্য এনামুল হক লিটনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, নারীনির্যাতন, অস্ত্র ব্যবসা, অপহরণ, হত্যা, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি আবারও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং নাজিরপুর ও চিতলমারী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
অভিযোগের বিবরণ
নাজিরপুর, দিঘীরজান, বানিয়ারী, তারাবুনিয়া, ভাইজোড়া, নতুন রাস্তা, চালিতাবাড়ি, বুড়িখালিসহ আশেপাশের এলাকায় লিটনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পিরোজপুর আদালত ও নাজিরপুর থানার রেকর্ড অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অন্তত ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছু মামলায় তিনি জামিনে মুক্ত এবং কিছুতে খালাস পেয়েছেন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা চিতলমারি এবং টুঙ্গীপাড়া উপজেলার কিছু অংশ এলাকায়ও অপকর্মের তথ্য আছে আছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, লিটন ও তার সহযোগীরা মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার বড় একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করে। বিভিন্ন কৌশলে বন্ধুত্ব বা সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণা এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়া তার পরিচিত কৌশল। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণী ও নারীদের ওপর বিশেষভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে নতুন রাস্তা ও চালিতা বাড়ির মাঝখানে সরকারি আবাসন প্রকল্প ঘরের ভিতরে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে
মেয়ে হত্যার অভিযোগ
২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নাজিরপুরের চালিতাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকার কামরুল ইসলামের মেয়ে রহস্যজনকভাবে নিহত হয়। ভুক্তভোগী বাবার অভিযোগ, ঘটনার আগের রাতে এনামুল হক লিটন ও তার সহযোগীরা মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয় এবং হুমকি দেয় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার। পরদিন মেয়েটিকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় লিটন এজাহারে ২ নম্বর আসামি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং পিবিআই তদন্ত করছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য
তারাবুনিয়া গ্রামের মো. রফিক জানান, চাঁদা না দেওয়ায় লিটন তার ভাবীকে কুপিয়ে জখম করে। ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার জানান, দীর্ঘদিন ধরে লিটন তাকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে, বর্তমানে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আছেন। দিঘীরজান গ্রামের ও স্কুলের কয়েক জন শিক্ষক বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরও বেড়েছে, চাঁদা দাবির পাশাপাশি মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
নাজিরপুর থানার ওসি মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভুইয়া জানান, লিটনের বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে—
এফআইআর নং-০১, তাং ০৩/০২/২০১৩, ধারা-১৪৩/৩৪১/৩৪২/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৫০৬(২)/৩২৩
এফআইআর নং-১৬, তাং ২৬/০৮/২০০৭, ধারা-৯(১)/৩০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন
এফআইআর নং-১১, তাং ১৪/০৩/২০০৭, ধারা-৩৭৯/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬
এফআইআর নং-১৪, তাং ৩০/০২/২০১৫, ধারা-৩৮৫/১৪৩/৩৪২/৩৭৯/৫০৬/৩৪
এফআইআর নং-৩, তাং ১০/০৯/২০২২, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ একাধিক ধারা
তাছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা নং ৭০/২০২২-ও আদালতে বিচারাধীন।
ওসি আরও বলেন, লিটনের বর্তমান অপরাধ সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিটনের প্রতিক্রিয়া
মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে এনামুল হক লিটন বলেন, “অভিযোগকারীর নাম না বললে কিছু বলব না।” পরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানিয়েছেন, এনামুল হক লিটনের নেতৃত্বাধীন অপরাধী চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন :