বিলাসী”— শরৎচন্দ্রের কলমে মানবিক বেদনার ছায়া
গ্লোবাল সংবাদ
- প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
মোঃ আল-আমীন শেখ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুসভা সম্প্রতি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিলাসী গল্পকে ঘিরে এক সাহিত্যচক্রের আয়োজন করে। গল্পটি পাঠের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ পাঠকরা আবিষ্কার করেন মানবজীবনের নির্মম সামাজিক বাস্তবতা, প্রেম, আত্মত্যাগ ও সামাজিক বৈষম্যের এক অনন্য চিত্র।
গল্পটি বলা হয়েছে গ্রামের সাধারণ চরিত্র ‘ন্যাড়া’র মুখে। ন্যাড়ার সহপাঠী মৃত্যুঞ্জয়—যে জীবনভর পড়াশোনার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও, অন্তরে ছিল উদার, নির্ভীক ও সহৃদয় এক মানুষ। সমাজে নানা দুর্নাম থাকা সত্ত্বেও সে নিঃস্বের পাশে দাঁড়িয়েছে, দরিদ্রকে সাহায্য করেছে, অথচ কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি পায়নি কখনো।
অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচিয়ে তোলে এক সাপুড়ে-কন্যা, বিলাসী। তাদের ভালোবাসা বিবাহবন্ধনে রূপ নিলে সমাজে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। জাতপাতের অজুহাতে মৃত্যুঞ্জয়ের নিজের আত্মীয়রাই তার জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। একসময় মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী গ্রাম ছেড়ে নতুন আশ্রয় খুঁজে নিতে বাধ্য হয়।
কিন্তু ভাগ্য তাদের মুক্তি দেয়নি। সাপুড়ে জীবনে পা দিয়ে মৃত্যুঞ্জয় একদিন গোখরোর কামড়ে প্রাণ হারায়। স্বামীর মৃত্যুতে বিলাসীও আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এভাবেই সামাজিক অবিচার, লোভ ও কুসংস্কার মিলেমিশে ধ্বংস করে দেয় দুটি নিষ্পাপ প্রাণের স্বপ্ন।
বন্ধুসভার এই সাহিত্যচক্রে শিক্ষার্থীরা আলোচনায় উল্লেখ করেন, শরৎচন্দ্র এখানে শুধু একটি করুণ প্রেমকাহিনি রচনা করেননি; তিনি তুলে ধরেছেন সমাজের সেই অন্ধকার দিক, যেখানে জাতপাতের বিভাজন, আত্মীয়তার ছদ্ম মুখোশ, আর অস্বীকারের রাজনীতি মানুষকে দগ্ধ করে তোলে। মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর পরিণতি যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়—সংস্কার যখন মানবিকতাকে গ্রাস করে, তখন জীবন হয়ে ওঠে এক অশেষ ট্র্যাজেডি।
এ গল্প পাঠ তরুণদের মনে নতুন প্রশ্ন তোলে: সমাজের উন্নতির নামে আমরা কি সত্যিই মানবিক হতে পেরেছি? নাকি এখনো নানা ছদ্মরূপে বেঁচে আছে সেই অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি?
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার উদ্যোগে এই আয়োজন তাই কেবল একটি সাহিত্য পাঠ নয়, বরং মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সচেতনতার দিকেও এক প্রয়োজনীয় আহ্বান।
আপনার মতামত লিখুন :