কুমিল্লায় বাস ট্রেন মুখমুখি সংঘর্ষ নিহত ১৫, আহত শতাধিক, রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মীর মোশারফ বাবু, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি।।


কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ভয়াবহ সড়ক-রেল দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহতের ঘটনাকে ঘিরে শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।


রোববার (২২ মার্চ) সকালে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দুটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


একটি বিভাগীয় পর্যায়ের ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। অপরদিকে, জোনাল পর্যায়ের আরেকটি ৬ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে। উভয় কমিটিতেই রেলওয়ের প্রকৌশল, যান্ত্রিক, সংকেত, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যাতে করে দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা যায়।


রেলওয়ে সূত্র জানায়, তদন্তে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংকেত কার্যকারিতা এবং চালকের দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলোতে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তেই ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাসের ধ্বংসাবশেষ এবং আহতদের আর্তনাদে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক এক পরিস্থিতি। এদিকে, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে রেলক্রসিংগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ