মোংলায় তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি।।


পবিত্র ঈদুল ফিতর দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলেও বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর জন্য এবারের ঈদ ছিল বিষণ্নতায় ঘেরা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতৃত্বের অবহেলায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু তৃণমূল কর্মী গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হামলা-মামলা ও কারাবাসের কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। 


ঈদের সময় অন্তত দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেন—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি বলে জানান তারা। মোংলা উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে জানা গেছে, অনেক কর্মী পরিবার-পরিজনের জন্য ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেননি। কোথাও সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা সবার মধ্যে পৌঁছেনি। অভিযোগ রয়েছে, চাল ও নগদ সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ছিল না এবং প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, ঈদের দিন তো দূরের কথা, এর আগেও অনেক স্থানীয় নেতা কর্মীদের খোঁজখবর নেননি। 


 নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, তারা কোনো পদ বা সুবিধার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং দলের আদর্শে বিশ্বাস করেই রাজপথে সক্রিয় থাকেন। কিন্তু ঈদের মতো সময়ে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্ট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, নেতারা নিজেদের প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশার দিকে নজর দিচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এমন অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেত্রী নাইনুর লিপি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দল অনুকূল অবস্থানে থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হচ্ছে না। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।


 সাবেক ছাত্রদল নেতা ও পৌর যুবদল নেতা মুহাম্মাদ আল মামুন জানান, দুর্দিনে কর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও দলীয় পর্যায়ে সে ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাচ্ছেন। এদিকে, পৌর বিএনপির ২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন দিদার সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সহায়তা কারা পেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।


 তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তবে একই এলাকায় ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ মোংলার তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকল। এখন দেখার বিষয়, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেন কি না।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ