অভিযোগকারীর বক্তব্য না নিয়েই তদন্ত শেষের অভিযোগ; ‘ম্যানেজ’ হওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের


FavIcon
গ্লোবাল সংবাদ
  • প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছবির ক্যাপশন:

স্টাফ রিপোর্টার।।


সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে এসে বিতর্কে জড়িয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত শেষে স্থানীয় একটি ভিআইপি মোটেলে খানাপিনা ও উপঢৌকন গ্রহণ করে ফিরে গেছেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আব্দুর রশিদ এবং সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও) আব্দুল বাছেদ অভিযোগ তদন্তে শাহজাদপুরে আসেন। তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পিআইও আবুল কালাম আজাদকে সঙ্গে নিয়ে তার কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করেন।


পরে পূর্বনির্ধারিত পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া গ্রামের দুটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে আগে থেকেই ‘প্রস্তুত’ করা কিছু লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তদন্ত কর্মকর্তারা।


পরিদর্শন শেষে তারা শাহজাদপুরে অবস্থিত পিপিডি মোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে যান। সেখানে ‘রাজকীয় আপ্যায়ন’ গ্রহণের পাশাপাশি উপহার সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।


অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন জানান, ২০২০-২১ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করেই প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন পিআইও আবুল কালাম আজাদ। এসব অভিযোগে তিনি ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্তের দিন তাকে ফোনে না পাওয়ার অজুহাতে তার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি নিজেই মোটেলে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলে তাকে পুনরায় লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়।


মোতাহার হোসেন বলেন, “আমার অভিযোগপত্রেই সব বিস্তারিত আছে। তারপরও আবার লিখিত চাইলে বুঝতে হবে অন্য কিছু হচ্ছে। আমার কথা না শুনে কীভাবে সুষ্ঠু তদন্ত হবে?” তিনি দাবি করেন, “তদন্ত কর্মকর্তা পিআইওর সঙ্গে গোপন বৈঠক ও আপ্যায়নের মাধ্যমে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছেন।”


এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও কার্যালয়ের স্টাফ আলতাফ হোসেন মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এমনিতেই বেকায়দায় আছি, আর ঝামেলায় ফেলবেন না।” অন্যদিকে, তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগের এই তদন্ত আদৌ নিরপেক্ষ হবে কি না, নাকি আগের মতোই পার পেয়ে যাবেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।


ad728

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ