এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
আবেদনে দাগ নাম্বার ভুল দেখে তা সংশোধন করতে বলায় নোয়াখালী সদরে হায়দার মিয়ারহাট ভুমি অফিসের ভুমি সহকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুষ- দুর্নীতির গুজব ছড়িয়েছে একটি মহল।
ঘটনার সুত্র, সদর উপজেলার ৬নং নোয়াখালী ইউনিয়নে হায়দার মিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন ভুমি অফিস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুমি অফিসের ভুমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশীলদার) আবদুল মতিনের ঘুষ দুর্নীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে সরেজমিনে গিয়ে জানাযায় বিষয়টি প্রকৃত ঘটনার বিপরীত।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে মোঃ কাশেম বনাম জৈনক আবদুর রব, আবদুল্লাহ,রশিদ মোল্লা,শানু
বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৭৬/২০২৫ ইং মামলা করেন। বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত হায়দার মিয়ারহাট ভুমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দাগিলের নির্দেশ দেন।
বাদী তার আইনজীবী এডভোকেট উত্তম কুমার শীল সহ সহকারী ভুমি কর্সকর্তার আবদুল মতিনের কাছেআসেন। সেবা প্রত্যাশী আবুল কাশেমের দাগ নাম্বার ৬২৪৫ কিন্তু তার আবেদনের কাগজে জমা দাগ নাম্বার ৪২৪৫ (ভুল) দেখে তহশীলদার তাকে আদালত কর্তৃক সংশোধনী আবেদন করে ভুল ঠিক করে আনতে পরামর্শ দেন। কারন এ ৪২৪৫ দাগের জমিটি সরকারী সম্পত্তি এবং এটি অন্য ব্যক্তির নিকট সরকারী বন্দবস্ত আছে।
হাসিমুখে আবেদন মির কাশেম চলে যান। কিন্তু তার আইনজীবী এডভোকেট উত্তর কুমার শীল মির কাশেমের ফোনে সহকারী ভুমি কর্মকর্তার সম্পর্কে আজে বাজে কথা বলেন। পরে আইনজীবি উত্তম কুমার শীল মক্কেল কাশেমকে নিয়ম বহির্ভুত ভাবে কম্পিউটার দোকান থেকে একটা সংশোধন লিখে তহশিল অফিসে পাঠান। সহকারী ভুমি কর্মকর্তা মতিন আবেদনটি নিয়মের বর্হিভুত হওয়ায় তা গ্রহন করেননি। তিনি তাকে আইনি প্রকৃয়া অনুযায়ী সংশোধন করতে পুনরায় অনুরোধ করেন এবং ভুল ধরিয়ে বিষয়টি বুজিয়ে দেন ।
উকিল সাহেবের বিশেষ অনুরোধ আর চাপাচাপিতে তহশীলদারের বুঝতে কষ্ট হয়নি এখানে অনৈতিক সুবিধা নিতে চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যায় এ সুবিধা নিতে পারেননি এডভোকেট সাহেব। তাই তিনি স্থানীয় সাংবাদিককে ডেকে এনে ভুল তথ্য দিয়ে ভুল নিউজ পাবলিশ করেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানান, এ পর্যান্ত কোন সেবা প্রত্যাশী স্থানীয় চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে জানাননি বা অভিযোগ করেননি। আর তহশিলদার কোন অনিয়ম করলে তা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন। বিষয়টি পুর্নাঙ্গ না জেনে ঢালাও ভাবে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা উচিত না।
স্থানীয় খলিলপুর এলাকার মজিবুল হক কিরন জানান, আমি জানিনা তহশিলদার সাহেব কেমন তবে আমি কেনো আমাদের এলাকার কোন লোকের কাছে কখনো শুনিনাই তহশীলদার সাহেব কারো কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে।
এ দিকে স্থানীয় বাজারের অনেক ও ব্যবসায়ী সেবা গ্রহিতা ঘুষের বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান। তারা বলেন তহশিল অফিসে গেলে সবাই ভালো ব্যবহার দেয়। মৌজা বেশি হওয়াতে কারো কারো কাজ একটু বিলম্ব হতে পারে।
এ বিষয়ে সহকারী ভুমি কর্মকর্তা আবদুল মতিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এটা সম্পুর্ণ একটা ভুল বুজাবুঝি। কারো ভুল ধরিয়ে দেয়া কি অপরাধ? ভুল থাকলে সেটা ঠিক করে গ্রাহককে সহায়তা করা আমার দায়িত্ব ছিল আর এতেতো গ্রহিতার লাভ। এটা সাংবাদিক সাহেব আর উকিল সাহেবের ভুল বুজা ছাড়া আর কিছুই না। একজন সাংবাদিক সাহেব আমাদের অফিসে এসেছেন। আমি ব্যস্থতার মধ্যে ও তাকে চা আপ্যায়ন করি এবং সম্মান দেখাই। কিন্তু তিনি কোন বিষয় আলোচনা না করে, কোন কিছু জানতে না চেয়ে আমার বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করতে চান। আমি উদ্ধতন কর্মকর্তার আদেশ না নিয়ে বক্তব্য রেকর্ড দিতে চাইনি। সাংবাদিক সাহেব চলে যান। এটাই আসলে ব্যস্থতার কারনে উনি হয়তো ভুল বুজেছেন।
ভিডিওতে প্রচারিত টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মতিন জানান, বিগত ১ বছর পুর্বে কোন একটা মসজিদের চলমান কাজের সহায়তা বাবত ব্যক্তিগতভাবে ৩ হাজার টাকা প্রদান করি । আর কে বা কারা সেটাকে হীন উদ্দেশ্য ভিডিও করে। আমি আমার দায়িত্ব পালন কালে কাউকে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতে দিই নাই। স্বার্থান্বেষী মহল যারা অবৈধ সুবিধা নিতে পারেননি তারাই আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের করে অপপ্রচার করছে । তারা তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন । তিনি বলেন এটাও ভুল তথ্য এবং ১ বছর আগের ভিডিও মোটকথা তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সাংবাদিক সাহেবকে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
এ বিষয় সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ শাহনেওয়াজ তানভীর জানান, বিষয়টি আমাকে পুর্ণ বিশ্লেষণ না করে একজন সাংবাদিক সংক্ষিপ্ত আমার বক্তব্য জানতে চান। আমি বলেছি কেউ লিখিত অভিযোগ করলে নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :