Thursday , 12 February 2026

উল্লাপাড়া ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম অব্যবস্থাপনা, প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন

॥  আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া  ( সিরাজগঞ্জ)  প্রতিনিধি ॥

রকারি নীতিমালা ও শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম মানবিক সুবিধাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা এমন অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকরা। বিদ্যালয়ের অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ও অভিভাবকদের বসার কোনো ব্যবস্থা না থাকা নিয়ে এখন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রধান শিক্ষক এ. টি. এম. আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, স্লিপের যে টাকা বছরে পাওয়া যায়, তা দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরিক্ষা নিতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। স্লিপের টাকা ছাড়াও আমার পকেট দিতে হয় টাকা। কিন্তু অভিভাবকদের ভাষ্য, পরীক্ষা নিতেই যদি সব টাকা ব্যয় হয়, তাহলে বিদ্যালয়ের এই নোংরা পরিবেশ, টয়লেটের বেহাল দশা ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগের দায় কে নেবে?

অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানদের স্কুলে রেখে তারা রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন, অথচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট বসার জায়গা বা ছাউনির ব্যবস্থাও করা হয়নি। তারা বলছেন, এটা অবহেলা নয়, এটা সরাসরি দায়িত্বহীনতা। শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের টয়লেটগুলো প্রায় সময়ই নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত ও অপরিষ্কার থাকে বলে অভিযোগ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চর্মরোগ, পেটের সমস্যা ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই টয়লেট ব্যবহার করেই আমাদের ছোট ছোট সন্তানদের স্কুলে থাকতে হচ্ছে। অসুস্থ হলে এর দায় নেবে কে প্রধান শিক্ষক নাকি শিক্ষা অফিস? সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্কুলের স্লিপের টাকা ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে।
অভিভাবকদের প্রশ্ন , যে অর্থ বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবহারের কথা, সেই টাকা কেন পরীক্ষার খাতে ব্যয় করা হচ্ছে?

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এ. টি. এম. আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, স্লিপের যে টাকা বছরে পাওয়া যায়, তা দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরিক্ষা নিতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। স্লিপের টাকা ছাড়াও আমার পকেট দিতে হয় টাকা। কিন্তু অভিভাবকদের ভাষ্য, পরীক্ষা নিতেই যদি সব টাকা ব্যয় হয়, তাহলে বিদ্যালয়ের এই নোংরা পরিবেশ, টয়লেটের বেহাল দশা ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগের দায় কে নেবে?

অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা চললেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ববোধ ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে, বিদ্যালয়ের আর্থিক খাত যাচাই ,স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নিশ্চিত ,অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো : মুস্তাফিজুর রহমান বলেন , স্লিপের টাকা ছাড়াও শিক্ষা উপকরণ বাবদ বিল, ভাউচারের মাধ্যমে সে অর্থ প্রধান শিক্ষককে দেওয়া হয়। এখানে প্রধান শিক্ষক নিজের টাকা ব্যয় করে পরিক্ষা নিবে কেনো ।

Check Also

রায়গঞ্জে ধামাইনগর ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ চলছে

॥ মোঃ মাসুদ রানা, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥ সি রাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ১নং ধামাইনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন …