
॥ আসাদুর রহমান হাবিব, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥
[dropcap] দি [/dropcap] নাজপুরের ফুলবাড়ীতে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপের অপারেটরে নিয়োগ নিয়ে বোরো মৌসুমে একই দিনে ৪-টি বরেন্দ্র গভীর নলকূপের গেটে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন সাবেক অপারেটররা এতে দু'পক্ষের হট্টগোলে সেচ সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

গত বোরো মৌসুমে বরেন্দ্র গভীর নলকূপের অপারেটর চেঞ্জ হয়ে দু'পক্ষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি হয় এতে আবাদি কৃষিজমির সেচ নিয়ে আমরা বিপাকে পড়ে যায় আমরা চাই সরকার নিরপেক্ষতার সহিত এর সমঝোতা করুক এ বিষয়ে সাবেক বরেন্দ্র বহুমুখী অপারেটরদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান গত ১৯ বছর আগে নিজেদের জমিতে সেচের প্রয়োজনে সরকারি ভাবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে নিজেদের জায়গায় বরেন্দ্র গুলো স্থাপন করেন
সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে শিবনগর ইউনিয়নের বরেন্দ্র বহুমুখীর সেচ প্রকল্পের আওতায় ৪-টি গভীর নলকূপের অধিনে প্রায় দুই শত একর আবাদি কৃষিজমি রয়েছে এবং এসব গভীর নলকূপের বিগত ১৯ বছর ধরে মোঃ আবু হানিফা,আব্দুল মমিন শোনা,সৌরাফ হোসেন সাগর ও আশরাফুল হক সরকার অপারেটর হিসেবে ছিলেন।
কৃষকেরা আরও জানান বিগত ১৯ বছর ধরে তাঁদের নিজেদের জমিতে সেচ দেয়ার পাশাপাশি বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃক গভীর নলকূপের পানি সরকারি নির্ধারিত দামে একর প্রতি ৪.৫০০ কাটায় এই এলাকার কয়েকশত কৃষককে নগত ও বাঁকিতে সুবিধা দিয়ে আসছেন আমরা কৃষক আবাদি কৃষিজমির সেচ দিতে আমাদের পানির প্রয়োজন হঠাৎ গত বোরো মৌসুমে বরেন্দ্র গভীর নলকূপের অপারেটর চেঞ্জ হয়ে দু'পক্ষের মাঝে বিবাদ সৃষ্টি হয় এতে আবাদি কৃষিজমির সেচ নিয়ে আমরা বিপাকে পড়ে যায় আমরা চাই সরকার নিরপেক্ষতার সহিত এর সমঝোতা করুক এ বিষয়ে সাবেক বরেন্দ্র বহুমুখী অপারেটরদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান গত ১৯ বছর আগে নিজেদের জমিতে সেচের প্রয়োজনে সরকারি ভাবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে নিজেদের জায়গায় বরেন্দ্র গুলো স্থাপন করেন এবং নিজেদের কৃষি জমিতে সেচের পাশাপাশি এলাকার কয়েকশত কৃষককে বোরোসহ অন্যান্য আবাদি কৃষি জমিতে সরকারি নির্ধারিত দামে নগত ও বাঁকিতে সেচ দিয়ে আসছেন।
এখনো কৃষকদের কাছে কয়েকলাখ টাকা তাঁদের বকেয়া পড়ে আছে বলে অভিযোগ করে বলেন আমরা কৃষকদের সাথে সমন্বয় করে চলে আসছি কিন্তু হঠাৎ সাবেক আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপির দাপট দেখিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী গভীর নলকূপ গুলো দখল করেন তাঁদের সাথে এ বিষয়ে আমাদের বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয় এবং তাঁরা আমাদের নামে মিথ্যা মামলাও করেছেন তাঁরা আরও বলছেন তাঁদের নাকি সরকারি নিয়োগে নিয়েছে আমরা নিজেদের আবাদি কৃষিজমি ও আসেপাশের কৃষকদের সেচের প্রয়োজনে জামানত দিয়ে নিজেদের জায়গায় বরেন্দ্র গভীর নলকূপ গুলো স্থাপন করেছি কিন্তু আমাদের না জানিয়ে আমাদের অবর্তমানে কিভাবে তাঁদের অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো আমরা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন গভীর নলকূপ প্রকল্প অফিসারের কাছেও গিয়েছি কিন্তু তিনি শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাজের কাজ কিছুই হয়নি এরপরও আমরা নিজেদের আবাদি কৃষিজমি ও অন্যান্য কৃষকদের সেচের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কোন প্রতিবাদ করিনি কিন্তু এখন আমাদের কৃষিজমিতে সেচের প্রয়োজন কিন্তু তাঁরা দ্বিগুন দাম চেয়ে আমাদের সাথে হট্টগোল করার চেষ্টা করছে আমরা আমাদের জামানত এবং নিজেদের জায়গায় বরেন্দ্র গভীর নলকূপ স্থাপনের বিষয়টি নিয়েই মূলত আজকে তালা লাগানো হয়েছে এই এলাকায় যাঁদের কৃষিজমি আছে সেই সকল কৃষকদের কাছ থেকে শুনে বিষয়টি বিবেচনায় দেখা হোক।
এ বিষয়ে বর্তমান বরেন্দ্র বহুমুখী গভীর নলকূপের অপারেটরদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান তাঁরা সরকারিভাবে লিজ নিয়েছেন এবং নিয়োগযোগ্য সাবেক অপারেটরদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা বলছেন এই বরেন্দ্র বহুমুখী গভীর নলকূপের আওতায় আমাদের অনেক কৃষিজমি রয়েছে সেগুলো চাষ করে আমরা জীবনযাপন করছি তাঁদের দু'পক্ষের হট্টগোলে আমরা কেন আবাদি কৃষিজমি নিয়ে বিপাকে পড়বো দ্রুত এর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।