
॥ মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥
[dropcap] দে [/dropcap] শের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় দুর্গম অঞ্চল এখন উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার আওতায় এসেছে। সমুদ্রতীরবর্তী বাগেরহাট জেলার মোংলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেশিরভাগই এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)’ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৫০ হাজারেরও বেশি ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপকূলীয় জেলা খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২,৩৮২টি উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ইডিসি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রের কোলঘেসা বাগেরহাটের মোংলায় ৭৬টি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মোংলায় পশুর নদীর অপরপ্রান্তে দাকোপ উপজেলায়ও ৮০টি সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও সহজ ও গতিশীল হয়েছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছরে সরকারি ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক উপকূলীয় অঞ্চলে বিস্তৃতি লাভ করেছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)’ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৫০ হাজারেরও বেশি ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপকূলীয় জেলা খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ২,৩৮২টি উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
ইডিসি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রের কোলঘেসা বাগেরহাটের মোংলায় ৭৬টি প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মোংলায় পশুর নদীর অপরপ্রান্তে দাকোপ উপজেলায়ও ৮০টি সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিস্তৃতি, অনলাইন পাঠদানসহ ই-সেবা কার্যক্রম তরান্বিত করতেই মূলত সরকারি অর্থায়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার সমীর বিশ্বাস বলেন, দূর্গম অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পাওয়ায় তাদের পড়শোনা করা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহও অনেক বেড়েছে। উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের ফলে শহর ও গ্রামের মধ্যে যে ডিজিটাল বিভাজন ছিল সেটা এবার দূর হবে।
সরেজমিন মোংলা উপজেলার ভূমি অফিস ও বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ইডিসি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা আগে থেকে অনেক সহজ হয়েছে এবং কাজের গতিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দিগন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কনিকা মন্ডল বলেন, এই ইন্টারনেট সংযোগ পেতে তাদের কোন টাকা খরচ হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিমাসে ইন্টারনেট বিলও দেওয়া হবে বলে তারা জেনেছেন। তিনি বলেন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাওয়ার ফলে প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অডিও-ভিডিও দেখিয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আবার অনেক অজানা বিষয় ব্রাউজিং করে তারাও নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারছেন। “বিদ্যালয়ের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের দপ্তরের সাথে অনলাইন যোগাযোগও এখন আমরা স্বাচ্ছন্দে করতে পারছি”, যোগ করেন এই শিক্ষিকা।
দেশের অত্যন্ত দূর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত লাউডোব ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের বানিয়াশান্তা পিনাকপানি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পৌছেছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (আইসিটি) কৌশিক রায় বলেন, উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়ার ফলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়া এখন অনেক সহজ হয়েছে। বিদ্যালয়টির ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাওহিদা জানান, তারা এখন দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য ব্রাউজিং করে জেনে নিতে পারছেন।
ইডিসি প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও বাগেরহাট জেলার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজটি বাস্তবায়ন করছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান সার্কেল নেটওয়ার্ক। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার উৎপল কুমার ঘোষ বলেন, সুন্দরবন লাগোয়া এবং সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় প্রতিটি গ্রামের ভেতরই রয়েছে ছোট বড় খাল বা জলাভূমি। ফলে উপকূলীয় এই দুর্গম এলাকায় ব্রডব্যান্ড লাইন টেনে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। ইন্টারনেট শিক্ষার্থীদের খুবই কাজে লাগছে বলে জেনেছি।