
॥ মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥
[dropcap] মোং [/dropcap] লা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের পৈতৃক ও ইজারা নেওয়া একটি বড় মৎস্য ঘের দখলচেষ্টা, হামলা মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ৩ মার্চ রাত ১০টার দিকে ইউনিয়নের আগা মাদুরপাল্টা কবিরাজ বাড়ির দিঘির পাড় সংলগ্ন এলাকায় মৎস্য ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘের মালিকসহ অন্তত ৪ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন।
এসময় বাধা দিলে হামলায় ঘের মালিক মোঃ আনসার সরদার, আবু মুছা সরদার ও মামুন সরদারসহ মোট ৪ জন রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আনসার, মুছা ও মামুনের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। তারা আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ নিয়ে সুন্দরবন ইউনিয়ন জুড়ে উভয় গ্রæপের মধ্যে উত্তে¡জনা বিরাজ করছে। থানায় এজাহার দাখিল করেছে ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা মোঃ আনসার সরদারের পৈতৃক এবং অন্য লোকজনের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে মাছ চাষ হয়ে আসছিল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে একই এলাকার প্রভাবশালী উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম মৃধার নেতৃত্বে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম মৃধা, জালাল মৃধা ও হানিফ হাওলাদার সহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ঘেরটি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে ভাংচুর ও লুটপাটের তান্ডব চালায়।
হামলাকারীরা ঘেরের পাহারাদার (গৈ-ঘর) ও মালিকপক্ষকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা ঘেরের ঘর ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করে। এসময় বাধা দিলে হামলায় ঘের মালিক মোঃ আনসার সরদার, আবু মুছা সরদার ও মামুন সরদারসহ মোট ৪ জন রক্তাক্ত জখম হয়। পরে আনসার, মুছা ও মামুনের ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। তারা আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আনসার সরদার অভিযোগ করেন, তার পৈতৃক ও বৈধভাবে ইজারা নেওয়া জমিতে আমরা মাছের ঘের করে আসছি। কিন্তু ফারুকুল ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী জোরপূর্বক আমাদের উচ্ছেদ করে ঘের দখল করতে চায়। বাধা দেওয়ায় তারা আমাদের উপর হামলা, মারধর ও ঘেরে লুটপাট করেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাইয়ের ছেলে মোঃ আকরাম সরদার বাদী হয়ে তরিকুল ইসলাম মৃধা, ফারুকুল ইসলাম মৃধা, মোঃ জালাল মৃধা ও মোঃ হানিফ হাওলাদার সহ ১০-১২ জনকে আসামী করে মোংলা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম ও ফারুকুল ইসলাম মৃধা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মোংলা থানা (ওসি তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।