
॥ এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ॥
[dropcap] নো [/dropcap] য়াখালীর সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরের আক্তার মিয়ার হাটের পূর্বপাশে চর আলাউদ্দিন নামক স্থানে মেঘনায় ডুবিয়ে থাকা এমবি আসাদ উল্যাহ নামীয় জাহাজটির দামি যন্ত্রপাতি ও মালামাল প্রকাশ্য দিন দুপরে ও রাতে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে জনৈক রাসেল ওরফে শাহ আলমের বিরুদ্ধে।

জাহাজটির মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলমগীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে এসব বিষয়ে রাসেলকে জানতে চাইলে, রাসেল উপরন্তু তার বাহিনী দ্বারা জাহাঙ্গীর ও আলমগীরকে মারধোরসহ প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে জেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগা দায়ের করেছেন জাহাজের বর্তমান মালিক ও ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আলমগীর হোসেন। জানা যায়, ২০২০ সালে জাহাজটি নোটারীমূলে খরিদ করেন জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলমগীর হোসেন। এরপর জাহাজটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তারা চর আলা উদ্দিনের মেঘনায় নোঙর করে রাখেন। অতপর লোভ, লালসার বশবর্তী হয়ে জাহাজটির বিক্রেতা মো. রাসেল ওরফে শাহ আলম নোঙরে থাকা জাহাজটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটে নিয়ে যায়।
জাহাজটির মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলমগীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে এসব বিষয়ে রাসেলকে জানতে চাইলে, রাসেল উপরন্তু তার বাহিনী দ্বারা জাহাঙ্গীর ও আলমগীরকে মারধোরসহ প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে।
এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন প্রতিকার চেয়ে জেলার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে একটি সিআর মামলা (যার নম্বর-৬১৬/২৪) দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এ ঘটনায় নোয়াখালী পুলিশের বিশেষ শাখা তদন্তক্রমে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রতিবেদনও দিয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট মামলার আইনজীবি সালাহ উদ্দিন সাকি। আদালত ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদনের আলোকে আসামী মো. রাসেল ওরফে শাহ আলমকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তবে শাহ আলম আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, আসামী শাহ আলম গ্রেফতারী পরোয়ানার খবর পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে বলে জানা গেছে। এরপর জাহাজের ডুবন্ত অংশবিশেষও তার জলদস্যু বাহিনীদের দিয়ে রাতে ও প্রকাশ্য দিনেও কেটে নিচ্ছেন বলে জানান জাহাঙ্গীর হোসেন।
অত:পর তিনি জাহাজটি রক্ষনাবেক্ষণের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদালতে আরেকটি আবেদন দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশনা মতে, এ বিষয়ে চরজব্বর থানা অভিযোগের সার্বিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আদালতে প্রতিবেদন দায়ের করেছেন।
অপরদিকে, এম বি আসাদ উল্যাহ জাহাজটির প্রয়োজনীয় ও আইনী রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিনদিন আসামী শাহ আলমসহ সংঘবদ্ধরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি লুট করে নেয়ায় জাহাজের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলমগীর হোসেন চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একইসঙ্গে,অভিযুক্ত শাহ আলমের বিরুদ্ধে জরুরী গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকরের দাবি করছেন তারা।