Saturday , 5 April 2025

সাতক্ষীরায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মেজো ভাইয়ের মৃত্যু! বড় ভাইয়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক: গ্রেফতার ৩

॥ মনিরুজ্জামান মনি, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ॥

সা তক্ষীরায় খালের দখল ও মাছ ধরা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মেজো ভাই মোশাররফ হোসেন (৩৮) নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের বড় ভাই আবুল হোসেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহত আবুল হোসেনের মেয়ে মনিরা খাতুন বলেন, “আশরাফ চাচা কোমরে ছুরি, আর সোহরাব চাচা কুড়াল নিয়ে হামলা করে যা সকলে দেখেছে। তাদের স্ত্রীদের চিৎকারে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আমার বাবা ও চাচাকে একসাথে মারতে থাকে। বাবা ও চাচাদের বাঁচার আকুল আকুতি আর আমরা চিৎকার করলেও কেউ সাহস করে এগিয়ে আসেনি।

এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া শেখপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত মোশাররফ, আহত আবুল, এবং অভিযুক্ত আশরাফ ও অভিযুক্তের সহযোগী সোহরাব হোসেন চারজনই একই পরিবারের আপন চার ভাই।

তারা বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত আশরাফ হোসেন (২৮), তার সহযোগী ভাই সোহরাব হোসেন এবং সোহরাবের স্ত্রী সাইমা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া আশরাফের স্ত্রী এখনও পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, নৈ-খালের মাছ ধরা এবং খালের অংশ দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চার ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি আশরাফ ও সোহরাব খালের একটি অংশে নেট ও বাঁশের পাটা বসিয়ে দখলে নিয়ে মাছ ধরছিল।

এতে আপত্তি করায় আশরাফ হোসেন তার মেজো ভাই মোশাররফকে ছুরি মেরে হত্যা করে এবং বড় ভাই আবুল হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। নিহত মোশাররফের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে তামান্না খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার বাবা সব সম্পত্তি বিক্রি করে ছোট চাচা আশরাফকে বিদেশ পাঠিয়েছিল। আজ সেই ছোট চাচাই বাবাকে খালের মধ্যে ছুরি মেরে হত্যা করেছে। আমার চাচা আবুল হোসেনকেও মেরে কাদার মধ্যে ফেলে রেখেছিল।”

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহত আবুল হোসেনের মেয়ে মনিরা খাতুন বলেন, “আশরাফ চাচা কোমরে ছুরি, আর সোহরাব চাচা কুড়াল নিয়ে হামলা করে যা সকলে দেখেছে। তাদের স্ত্রীদের চিৎকারে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আমার বাবা ও চাচাকে একসাথে মারতে থাকে। বাবা ও চাচাদের বাঁচার আকুল আকুতি আর আমরা চিৎকার করলেও কেউ সাহস করে এগিয়ে আসেনি।

এই হত্যাকাÐ যারা ঘটিয়েছে তাদের অতি দ্রæত বিচার চাই” স্থানীয় বাসিন্দা আবু রায়হান বলেন, “নৈ-খালের ওপর এলাকার কিছু মানুষ অবৈধভাবে বাঁশ ও নেট বসিয়ে দখল করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ মাছ ধরতে পারে না। এই নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হয়। প্রশাসনের উচিত দ্রæত খাল উন্মুক্ত করে দেয়া, নইলে এরকম রক্তক্ষয়ী ঘটনা আরও ঘটবে।” কলারোয়া থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, “খাল দখল ও মাছ ধরার বিরোধ থেকেই হত্যাকাÐের সূত্রপাত। ঘটনাস্থল থেকে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আশরাফ, সোহরাব ও তার স্ত্রী সায়মা খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আশরাফের স্ত্রী পলাতক, তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।” এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান হোসেন জানান, “ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নিহতের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে তদন্তের জন্য রয়েছে এবং নিয়ম মেনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।

Check Also

আ.লীগের হামলার শিকার বিএনপি নেতার শয্যা পাশে ব্যারিস্টার সায়েম

॥ এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ॥ নো য়াখালী সদর উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়ন …