মনিরুজ্জামান মনি, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি।।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানব প্রদর্শনী, বর্ণাঢ্য র্যালি ও ব্যতিক্রমী নৌকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পানি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠে পানি দিবসের মানব ও কলস প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে কলস দিয়ে ‘পানির ফোটা’ ফুটিয়ে তোলা হয় এবং দেড় শাতধিক নারীদের অংশগ্রহণে ‘পানি দিবস’ লেখাটি ফুটিয়ে তোলা হয়।
প্রদর্শনী শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় মুন্সিগঞ্জের শেখবাড়ির মোড়ে খেলার মাঠ থেকে ১১টি ভিন্ন ভিন্ন ব্যানার সহকারে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এরপর দুপুর ২টায় বুড়িগোয়ালীনির চুনা নদীতে ব্যাতিক্রমী এক নৌকা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসব প্রদর্শনী ও র্যালিতে শ্যামনগরের গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের নারী বাঁধ সুরক্ষা দলের ১৫০ জন সদস্যসহ জিহা সদস্যবৃন্দ অংশ নেয়।
এমবাসি অব সুইডেন ঢাকা ও ইউএন উইমেন এর সহযোগিতায় এবং এএফএডি, এএসডিডিডব্লিউ ও বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে নারী দিবসের এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়ার নেতৃত্বে অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন, জিহা সদস্য শেফালি বিবি, শাহানারা খাতুন সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
উপকূলীয় এলাকার ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, ‘সারা বিশ্বে পানি নিয়ে অনেক বড় বড় কথা হচ্ছে, অথচ এই উপকূলের নারীদের জীবনের প্রতিটি দিন কাটে এক কলস নিরাপদ পানির যুদ্ধে। আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে পানির অভাব মানে কেবল তৃষ্ণা নয়; পানির অভাব মানে এক অমানবিক লড়াই। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আজ আমাদের নদীগুলোর পানি নোনা হয়ে গেছে, পুকুরগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আর এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন আমাদের মত উপকূলীয় নারীরা।’
তারা আরো বলেন, ‘উপকূলের নারীরা প্রতিদিন ২ থেকে ৫ মাইল পথ পাড়ি দিতে হয় শুধু এক কলস মিষ্টি পানির জন্য। তপ্ত রোদে পুড়ে বা ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এই দীর্ঘ পথ হাঁটা তাদের শরীরকে ভেঙে দিচ্ছে। নোনা পানি ব্যবহারের ফলে আমাদের উপকূলের নারীরা জরায়ুর সমস্যাসহ নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যে কিশোরীটির এখন স্কুলে থাকার কথা, তাকে মা’কে সাহায্য করতে মাইলের পর মাইল পানির কলস নিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। তাদের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে, শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে।’
ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, ‘পানি মানুষের মৌলিক অধিকার, কোনো বিলাসিতা নয়। কিন্তু উপকূলের নারীদের জন্য এটি আজ সোনার হরিণ। আমরা যদি তাদের এই কষ্ট লাঘব করতে না পারি, তবে উন্নয়নের এই বড় বড় কথা অর্থহীন হয়ে পড়বে। এজন্য উপকূলের মনুষের সুপেয় পানির সংকট কাটাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ সময়ের দাবি।’