নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম আর প্রবাসে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কারিগর—এই বহুমুখী পরিচয়ে চন্দনাইশ উপজেলা রাজনীতির সমীকরণে এখন আলোচনার তুঙ্গে খন্দকার এম এ হেলাল (সিআইপি)। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম এখন সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।
খন্দকার এম এ হেলালের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে। ছাত্রদলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে দ্রুতই নেতৃত্বের সারিতে নিয়ে আসে। সেই থেকে শুরু, দীর্ঘ ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলীয় আদর্শে অটল থেকে রাজনীতির প্রতিটি ধাপ পার করেছেন।
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় সৌদি আরবে অবস্থান করলেও দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এই নেতা। বরং মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে তিনি পালন করেছেন অগ্রণী ভূমিকা। মক্কা প্রাদেশিক বিএনপি: সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন। সৌদি আরব কেন্দ্রীয় বিএনপি: সহ-সভাপতি হিসেবে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন।
প্রবাস জীবনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি তিনি 'চট্টগ্রাম প্রবাসী ক্লাব লিমিটেড' প্রতিষ্ঠা করে একজন মানবিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে প্রবাসীদের আইনি সহায়তা ও মানবিক সংকটে তার অবদান সর্বজনস্বীকৃত।
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি পুনরায় সক্রিয় হন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং চন্দনাইশের সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে তার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
"রাজনীতি আমার কাছে কেবল পদ-পদবী নয়, বরং দেশ ও মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। ১৯৯০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দলের প্রতিটি দুঃসময়ে আমি নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। চন্দনাইশবাসীর সেবা এবং দলের প্রয়োজনে আমি নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।" > — খন্দকার এম এ হেলাল (সিআইপি)
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খন্দকার হেলালের ক্লিন ইমেজ, সিআইপি হিসেবে ব্যবসায়িক পরিচিতি এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আসন্ন নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং প্রবাসীদের পরিবারের মাঝে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে খন্দকার এম এ হেলাল চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের হাল ধরলে এলাকার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উভয়ই নিশ্চিত হবে।