মমিনুল ইসলাম, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি।
ভোলার তজুমদ্দিনে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেড়িবাঁধের পাশ থেকেই বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়ে পুনরায় বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে নতুন নির্মিত বাঁধ টেকসই হওয়া নিয়ে যেমন সংশয় দেখা দিচ্ছে,তেমনি উল্টো তীরের পার্শ্ববর্তী স্থাপনাগুলো ধ্বসের মারাত্মক ঝুঁকিতে পরবে।
গত ৫ এপ্রিল (রবিবার) সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলার তজুমদ্দিনের চাঁদপুর ইউনিয়নের মোল্লাগ্রামের পূর্ব পাশে বেড়িবাঁধের ১০০ মিটার দূর থেকে বালি উত্তোলন করে হাইওয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী দূরবর্তী স্থান থেকে মাটি বা বালু এনে বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় অসাধু চক্র বাঁধের একদম পাশ থেকেই ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে। বিস্তার এলাকাজুড়ে গর্ত তৈরি করে বালু তোলার ফলে বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি বা সামান্য জলোচ্ছ্বাসে বাঁধটি ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাঁধের কোল ঘেঁষে বালু তোলায় মূল ভূখণ্ড ক্রমেই দুর্বল হয়ে পারবে।স্থানীয় বাসিন্দা মমিন জানান, " তজুমদ্দিন রক্ষার জন্য বাঁধ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেই বাঁধের নিচ থেকেই যদি বালু সরানো হয়, তবে এটি কতদিন টিকবে? সামান্য পানির চাপেই এই গর্তের কারণে পুরো বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।"
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ আইনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বাঁধের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে থেকে মাটি বা বালু কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এখানে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে প্রভাবশালী চক্র বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে একদিকে সরকারের শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে তজুমদ্দিনের হাজার হাজার মানুষের জানমাল অরক্ষিত হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পানি বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহম্মেদ সাংবাদিকদের মুঠোফোনে জানান তিনি মনপুরায় রয়েছেন এই বিষয়ে অবগত নয় তবে বেড়িবাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। তিনি বেড়িবাঁধের কাছ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান বিষয়টি কেউই তাকে অবগত করেন নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই বাঁধের ক্ষতি করে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।