নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাবু কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে নিজ দলটির একাংশের নেতাকর্মী সমর্থকরা। এ লোক গুলো উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দিনের সমর্থক উল্লেখ করে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া দেবীপুর এলাকায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে সপ্তাহ জুড়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে পুরো উপজেলায়। শনিবার ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের দোয়ালিয়া-দেবীপুর এলাকায় ১.১ কিলোমিটার একটি খাল পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে গত শুক্রবার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা কায়েসুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, জেলা বিএনপির সদস্য এডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, উপজেলা বিএনপি নেতা আহসান উল্লাহ প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন দলের একাংশের নেতাকর্মী সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীরা কামাখ্যা চন্দ্র দাসের নাম ও ছবি সংবলিত ব্যানার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন, কামাখ্যা চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীদের অনিয়ম ও নির্যাতনে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা এ বিষয়টি প্রধান অতিথি বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুকে জানাতে স্টেজের দিকে যান। অভিযোগ জানানোকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে গেলে মোটা অংকের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রবাসী ও বিত্তশালীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, দোকান ও সড়ক থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।
প্রতিবাদ করলে মারধর, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা। এদিকে কামাখ্যা চন্দ্র দাস নোয়াখালী প্রেসক্লাবে যমুনা টেলিভিশনের একযুগ পুর্তি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিকট তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে করা কর্মসূচির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এনিয়ে জানতে চেয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর মুঠোফোন একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।