এ আর আজাদ সোহেল নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
নোয়াখালীতে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক বিক্রির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূর বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
আগুনে পুরো ঘর ভস্মীভূত হয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। এ হামলায় হোসনেয়ারা বেগমের দুই মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— সুমাইয়া আক্তার নিপু (১৮) ও বিবি ফাতেমা (২৭)। তারা বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার ৬ নং নোয়াখালী ইউনিয়নের চর এলাহি মুরাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী হৃদয় ও রানা বেগম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে হোসনেয়ারা বেগমকে মাদক বিক্রির জন্য প্ররোচনা দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হয়ে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানিয়ে দিলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে ঘটনার দিন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী হোসনেয়ারা বেগমের ঘরে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিবি ফাতেমা ও তার বোনকে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর ঘরে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে আলমারি থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই আসবাবপত্র, জরুরি কাগজপত্র, চেকবইসহ মূল্যবান সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মাদক সন্ত্রাসীদের ভয়ে প্রতিবেশীরাও আগুন নেভাতে এগিয়ে আসার সাহস পাননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, জুমার নামাজের পরপরই তারা হঠাৎ চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন। তবে মুহূর্তের মধ্যেই হোসনেয়ারার ঘরটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এ বিষয়ে নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দিনের আলোতে এভাবে একটি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া জঘন্য অপরাধ। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
সুধারাম মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, অপরাধী যেই হোক কেউ আইনের উদ্ধে নয়। অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।