রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি।।
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে গ্রাম আদালতের সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও কার্যকর, গতিশীল ও জনবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে ”গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন” শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় গ্রাম আদালতের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সচেতনতায় জোর দিলেন জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, “গ্রাম আদালত গ্রামীণ জনপদের মানুষের জন্য স্বল্প ব্যয়ে, দ্রুত ও সহজ বিচারপ্রাপ্তির একটি অনন্য মাধ্যম। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আদালতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং আইনগত সচেতনতা সৃষ্টি করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের আওতায় এসে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণ জরুরি কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন নিপা। তিনি বলেন, “গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে তৃণমূল মানুষকে অবহিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, এনজিও, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”
সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করতে নিচের বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন: • ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা। • গ্রামে গ্রামে নিয়মিত ‘উঠান বৈঠক’ আয়োজন। • ব্যাপক গণসংযোগ বৃদ্ধি। • সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা।
উক্ত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন দিলদার হোসেন, উপজেলা সমন্বয়কারী, গ্রাম আদালত, রামগতি উপজেলা। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাবনার ভিত্তিতে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও যুগোপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।