আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি।।
আমাদের পরিবহন সেক্টরের কেউ যদি কোন ভুল বা অনিয়ম করে আমাদেরকে বলবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রশাসন যদি সরাসরি কোন ব্যবস্থা নেয়, তাহলে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটতে পারে। এটা কারোর জন্যই ভালো হবে না। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে আয়োজিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে ঘরমুখো যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় এ ভাবেই বক্তব্য উপস্থাপন করেন রাজবাড়ী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মাহমুদুল হাসান জুয়েল।
তিনি আরো বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে ডিপারসার (চাঁদা) বাবদ যে টাকা নেয়া হয়, তা শ্রমিকদের কল্যাণে খরচ করা হয়। এছাড়া দুই ঈদের আদায় করা ওই টাকা দিয়ে প্রশাসনকে বিভিন্ন সহযোগিতা ও সামাজিক কাজে খচর হয়। আর এই টাকা কোন যাত্রীর কাছ থেকে নেয়া হয় না। বাস মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হয়। এ বিষয়ে কোন বাস মালিকের কোন প্রকার অভিযোগ নেই। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসন বা কোন সাংবাদিকের কিছু বলার নেই। কোন সাংবাদিক ভুল ও অসত্য তথ্য দিয়ে কোন প্রকার সংবাদ পরিবেশন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
রাজবাড়ী জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদ মোল্লা তার বক্তব্যে বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটে শতাধিক সাংবাদিক ভুল তথ্য দিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করে।’ এ বিষয়টি প্রশাসনের নজর দেয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে সভায় উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ শ্রমিক নেতার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এসময় গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি ঈদে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে এই ডিপার্সারের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। অথচ কেউ কেউ এটার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। ঈদে যাত্রী পরিবহন করা বেশীর ভাগ বাসেরই ফিটনেস থাকে না। তিনি আরো জানান, গত ঈদে বাসডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ বাসের কারণেই ২৬টি তাজা প্রাণ ঝড়ে গেছে। এসময় তিনি কোন সাংবাদিক মিথ্যে নিউজ করেছে তার তথ্য-প্রমান দাবি করেন।
সভায় উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক মোশাররফ আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় নানা ভাবে অবৈধ উপায়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। যেটা কারোরই কাম্য নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাস মালিক সংগঠনের নামে কথিত ডিপাটর্সার বাবাদ প্রতিটি যানবাহন থেকে কমপক্ষে ৭শ টাকা, অনেক সময় এক থেকে দেড় হাজার টাকাও আদায় করায় হয়। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।’
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলামসহ বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতিনিধি, লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি ও ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস জানান, কে কিভাবে কি বলল, সে ভাবে তো আর প্রশাসন চলবে না। প্রশাসন তার নিজস্ব গতিতে আইন অনুযায়ী কাজ করবে। আসন্ন ঈদে কোরনানীর গরু পরিবহন এবং ঘরমুখো মানুষ ও ঈদ শেষে কর্মস্থলগামী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে তারা সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করবেন। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধসহ যাত্রীদের নিরাপত্তায় সব ধরনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে।