এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।।
চারিদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দের আমেজ, অথচ নোয়াখালীর কবিরহাটে এক জরাজীর্ণ ঘরে চলছে অনাহার আর কান্নার রোল। পরিবারের ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনই প্রতিবন্ধী। তার ওপর সামান্য বৃষ্টি বা বর্ষা এলেই ঘরবাড়ি ডুবে যায় কোমর পানিতে। আসন্ন ঈদে যেখানে বিত্তবানরা কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেখানে এই অসহায় পরিবারের কপালে এক কেজি মাংস কেনার মতোও সামর্থ্য নেই।

মানবেতর এই চিত্রটি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাজির খেওয়ার দক্ষিণ-পূর্ব পাশের আবু তাহেরের বাড়ির।
এমনিতেই নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার, তার ওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবারটিকে যেন পঙ্গু করে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই আবু তাহেরের জরাজীর্ণ বাড়িটি কোমর পরিমাণ পানিতে ডুবে থাকে। ঘরের চারপাশে পানি উঠে যাওয়ায় প্রতিবন্ধী সদস্যদের নিয়ে চৌকির ওপর ভাসমান অবস্থায় দিন কাটাতে হয়। সবচেয়ে বড় সংকট বাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো কোনো চলাচলের রাস্তা নেই। ফলে বর্ষা এলে জলাবদ্ধ এই বাড়ির ভেতরেই কার্যত বন্দী হয়ে পড়েন অসহায় মানুষগুলো।
পরিবারের একমাত্র চালিকাশক্তি ছিলেন আবু তাহের নিজেই। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তিনি নিজেও এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিছুদিন আগে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার হাত ভেঙে যায়। এরপর থেকে কোনো কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। ফলে পুরো পরিবারের খাদ্যের জোগান ও অসুস্থ চারজন প্রতিবন্ধী সদস্যের চিকিৎসার খরচ চালানো সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা। পুরো দেশ যখন উৎসবের অপেক্ষায়, তখন আবু তাহেরের ঘরে জ্বলছে না ঠিকমতো উনুনও। অশ্রুসিক্ত চোখে আবু তাহের বলেন, এমনেতেই ঘরবাড়ি পানিতে ডুবি থায় , হাতডা ভাঙ্গি যাইবার পরের তুন ঘরে এক ছটাক চাল আনার অবস্থা নাই। আল্লাহ! কোন মতে খাই, না খাই, বাঁচি আছি। এই ঈদে হোলাহাইনরে মুখে এক কেজি গোশত তুলি দিমু, হেই ক্ষমতাও আল্লাহ আঁরে দে নই ।
প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটির এই চরম দুর্ভোগে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য পৌঁছায়নি। রাস্তা না থাকায় এবং চারপাশ পানিতে ডুবে থাকায় তাদের কষ্ট দেখারও কেউ নেই।
ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের এই হতদরিদ্র পরিবারটিকে কোমর পানির অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে, চলাচলের একটি রাস্তার ব্যবস্থা করতে এবং আসন্ন ঈদে তাদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে কবিরহাট উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসী ভাইদের প্রতি জরুরি ও মানবিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।