মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট এবার পবিত্র ঈদুল আযহার সময় চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এবং বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার ঘটনায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসা মানুষজনও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদের দিনেও কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। আবার কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চলে যাচ্ছে। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, পানির মোটর ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় বাড়ছে দুর্ভোগ।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কুরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে। অনেক পরিবার ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করলেও দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পেরে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সমস্যায় পড়ছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা সমালোচনা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, 'ঈদের ছুটিতে কলকারখানা ও অফিস আদালত বন্ধ থাকার পরও কেন এত লোডশেডিং?' আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকার পরও কেন বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা।
স্থানীয়দের মতে, সুবর্ণচরে বিদ্যুৎ সংকট নতুন নয়। লাইন সমস্যা, সরবরাহ ঘাটতি, সাবস্টেশন উন্নয়ন কাজ, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া, লাইন সংস্কার, অতিরিক্ত তাপদাহে যন্ত্রপাতির সমস্যা, জনবল সংকটসহ নানা অযুহাত দেখিয়ে প্রায়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা বলা হয়। তবে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজও হয়নি।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ অফিসের হেল্পলাইনে ফোন করলে অধিকাংশ সময় কল রিসিভ করা হয় না। আবার কল রিসিভ করলেও 'লাইনের কাজ চলছে' বলে দ্রুত ফোন কেটে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক গ্রাহকের দাবি, অতিরিক্ত কল গেলে কখনও কখনও ফোন বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে পল্লী বিদ্যুতের সুবর্ণচর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আরব আলী শেখের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। অনেকের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
বিদ্যুৎ সেবাকে ঘিরে রয়েছে আরও নানা অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে ভুতুড়ে বিল, দুর্নীতি, সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার, গ্রাহকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দূরবর্তী এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা।
স্থানীয়রা জানান, বিগত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও সুবর্ণচরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। মাঝেমধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সামগ্রিকভাবে সমস্যা থেকেই গেছে। বর্তমান সময়েও একই চিত্র বিরাজ করছে বলে দাবি তাদের।
সুবর্ণচরের বাসিন্দাদের মতে, এখন সময় এসেছে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান করার। নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।