রামগতি ও কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি।।
কমলনগরে শারমিন আক্তার মুক্তা (২০) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের জামালের বাপের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে প্রচার করা হলেও লাশের গলায় নখের দাগ এবং ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির পুরুষ সদস্যদের আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে নিহতের পরিবার। নিহত মুক্তা উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের প্রবাসী হাসানের স্ত্রী। জানা গেছে, সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হাসানের সঙ্গে মুক্তার বিয়ে হয়। আড়াই বছর আগে হাসান সৌদি আরব চলে যাওয়ার পর থেকেই মুক্তার ননদের জামাই স্বপন তাকে কুপ্রস্তাব ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।
মুক্তার ঘুমের ঘোরের কিছু ছবি তুলে সেগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন তাকে হেনস্তা করে যাচ্ছিল। এ নিয়ে পরিবারে একাধিকবার ঝগড়া ও সালিশও হয়। মঙ্গলবার এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে তাদের ঘরে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে যান। এ সময় তারা মুক্তাকে বারান্দার মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই মুক্তার দুই ননদের জামাই পালিয়ে যান। শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুক্তা শাড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়েছে বলে প্রচার করলেও প্রতিবেশীরা জানান, লাশের গলায় একাধিক নখের আঁচড় ও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
নিহত মুক্তার চাচা ফজর আলী ও জ্যাঠাতো ভাই নূরুল ইসলাম বলেন, লম্পট স্বপন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে মুক্তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের শ্বশুর, দেবর ও অভিযুক্ত স্বপনসহ বাড়ির পুরুষ সদস্যরা পলাতক রয়েছে। ওসি ফরিদুল আলম জানান, গলার আঘাতের বিষয়সহ সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।