রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নগদ ৮ লাখ টাকাসহ কুখ্যাত ডাকাত আজিম ব্যাপারী ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) গভীর রাতে উপজেলার জনতা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদী ও পার্শ্ববর্তী একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায় যে জনতা বাজার সংলগ্ন মেঘনা নদীতে একটি ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে রামগতি স্টেশন কোস্ট গার্ডের একটি চৌকস দল শুক্রবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে কুখ্যাত ডাকাত মো. আজিম ব্যাপারী ওরফে আজিম ডাকাত (৩২) এবং তার দুই সহযোগীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত একটি গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালায়। এ সময় সেখান থেকে একটি দেশীয় একনলা বন্দুক, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ও লুণ্ঠিত বলে সন্দেহভাজন নগদ ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আজিম ব্যাপারী নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা এলাকার ভুঁইয়ার হাটের বাসিন্দা। অপর দুই সহযোগী মো. বশির (৪০) ও রাব্বী (১৬) লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা-এর বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানায়, আজিম ডাকাত দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদী ও উপকূলীয় এলাকায় ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগে ২০২২ সালেও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে। তার বিরুদ্ধে রামগতি থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধমূলক মামলার রেকর্ড রয়েছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও নগদ অর্থসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তাদের রামগতি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলে ডাকাতি, জলদস্যুতা এবং মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।