রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কিশোরী গৃহবধূ মারিয়া জাহান মীম (১৬) হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা গ্রহণের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। আজ বুধবার (১০ জুন) বিকেলে "সচেতন এলাকাবাসী"র ব্যানারে রামগতি-লক্ষ্মীপুর প্রধান সড়ক বন্ধ করে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিকেল ৪টার দিকে রামগতি পৌরসভার চর সেকান্দর রাস্তার মাথায় জড়ো হয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে নিয়ে প্রধান সড়কটি অবরোধ করে দেন। সড়ক অবরোধের ফলে দুপাশে শত শত যানবাহন আটকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা মারিয়া জাহান মীমের "রহস্যজনক মৃত্যু"র সঠিক তদন্ত এবং জড়িত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগতি পৌর চর সেকান্দর এলাকার আব্দুল মালেকের মেয়ে মারিয়া জাহান মীমের সাথে বিয়ে ও কাবিননামার টাকা বৃদ্ধি নিয়ে কিছুদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জেরে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) তার শ্বশুরবাড়িতে মীমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ কোনো আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, মীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মীমের শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘরের ভেতর যে অবস্থায় লাশ পাওয়া গেছে, সেখানে ফাঁস দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত উচ্চতা ছিল না। ঘটনার পর থেকেই মীমের স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সচেতন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: "বিয়ে ও কাবিনের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে একটি ১৬ বছরের নিষ্পাপ মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। অথচ পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ করতে ও আসামিদের ধরতে গড়িমসি করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।"
তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা গ্রহণ করে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা না হয়, তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে রামগতি থানা পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।