এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার একটি সড়ক সংস্কারে চরম অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সড়কের কার্পেটিং হাতের টানে উঠে আসায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কাজের এই বেহাল দশা কাজের গুণমান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট পর্যন্ত সড়কটির কার্পেটিংয়ের বিভিন্ন অংশ অনায়াসেই হাত দিয়ে তুলে ফেলা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত ইটের খোয়া, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির সংস্কার কাজের দায়িত্ব পান ‘চাষী’ নামের এক ঠিকাদার।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংস্কার কাজ প্রায় ৯৮ ভাগ সম্পন্ন হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, রাস্তার কার্পেটিং পুরোপুরি মজবুত হয়নি। হাত দিয়ে টানলেই তা উঠে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেনকে ম্যানেজ করে ঠিকাদার অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় জানান, কাজ শুরুর সময় থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। স্থানীয়রা এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের একাধিকবার জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মো. সাজু নামের এক স্থানীয় যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কার্পেটিংয়ে নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় রাখা হয়নি এবং নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার কোটি টাকা খরচ করলেও এলজিইডি ও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে জনগণের কোনো উপকার হচ্ছে না। যেখানে হাত দিয়ে কার্পেট তোলা যাচ্ছে, সেখানে ভারী যানবাহন চলাচল করলে রাস্তাটি একদিনও টিকবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, আমি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে গিয়েছি। স্থানীয়দের অভিযোগগুলো আমলে নেওয়ার মতো নয়। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। কাজের তথ্য জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে হবে, এর বাইরে আমি কোনো মন্তব্য করব না।