এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উত্তাল হয়ে উঠেছে নদী ও সমুদ্র। এ অবস্থায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ টানা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানিয়েছেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই প্রশাসন গত তিন দিন ধরে হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হাতিয়া রুটে সি-ট্রাক, ফেরি, স্পিডবোট ও যাত্রীবাহী ট্রলারসহ কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যদি ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চলাচলের চেষ্টা করে, তবে সে দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মালিককেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় হাতিয়ার নলচিরা এবং মূল ভূখণ্ডের চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় আটকা পড়েছেন শত শত যাত্রী। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ সাধারণ মানুষ ঘাটগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। প্রচণ্ড গরম ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ঘাট এলাকায় যাত্রীসাধারণের চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবারই বৈরী আবহাওয়ায় হাতিয়াবাসীকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সতর্কতা সংকেত তুলে নেওয়ার পরপরই নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।