মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সাতক্ষীরা।।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) স্থান পেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে মৃন্ময় নাথ। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। মৃন্ময়ের এই অসামান্য সাফল্যে তার পরিবার ও বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
মৃন্ময় নাথ সাতক্ষীরা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের রাজার বাগান গ্রামের বাসিন্দা সুজিত নাথের ছেলে। তার রোল নম্বর ২০৫৫৬৯১। আজ ১২ জুলাই ২০২৬, রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণার পর মৃন্ময়ের পিতা তাকে বুকে টেনে নেন এবং মিষ্টি মুখ করান।
মৃন্ময়ের এই সাফল্যের পথটা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। গত বছরজুড়ে তীব্র বিদ্যুতের সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন ঘটেছে। গরমে আর অন্ধকারে যখন পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ত, তখনও দমে যায়নি মৃন্ময়। হাতপাখার বাতাস আর মোমবাতির আলোকেই সঙ্গী করে গভীর রাত পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে গেছে সে। সব কষ্ট আর প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ তার এই মেধার স্বীকৃতি।
ভবিষ্যতে মৃন্ময় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চায়। তার এই সাফল্যের জন্য সে তার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বাবা-মায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
ছেলের এই অসাধারণ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পিতা সুজিত নাথ সংবাদমাধ্যমের কাছে তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, "আমার ছেলে মৃন্ময় আজ যে গৌরব বয়ে এনেছে, তাতে পিতা হিসেবে আমার বুক সুখে ভরে গেছে। তীব্র লোডশেডিংয়ের কষ্টের মধ্যেও ছেলে যেভাবে পড়াশোনা ধরে রেখেছিল, আজ তার ফল পেয়েছে। সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মৃন্ময়ের নিজের মেধা ও কঠোর অধ্যবসায়ের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমি আজ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।"
তিনি আরও বলেন, "আমি সবার কাছে আশীর্বাদ চাই যেন মৃন্ময় আগামী দিনেও তার এই সফলতার ধারা বজায় রাখতে পারে এবং একজন সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।"