এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর মাইজদী থেকে চুরি হওয়া সাংবাদিকের মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। বিশেষ কৌশলে অভিযান চালিয়ে গত ১৭ ও ১৮ জুলাই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো,হাতিয়া থানার দক্ষিণ হাতিয়া এলাকার মো: ফয়সাল (৩৫) এবং চরজব্বর থানার পশ্চিম চরলিয়ার জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।
গত ১২ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদী-সোনাপুর সড়কের টোকিও ফুডের সামনে থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার নোয়াখালী স্টাফ রিপোর্টার আবু নাছের মঞ্জুর একটি কালো রঙের হোন্ডা (১১০ সিসি) মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে।
পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের দিকনির্দেশনায় সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং কৌশলে ক্রেতা সেজে চোর চক্রের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ দেখালে চোর চক্রটি অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পুলিশের পক্ষ থেকে সেই টাকা বিকাশে পাঠানোর পর, চক্রটি নোয়াখালীর কাঞ্চন মেম্বারের পোল এলাকায় আসতে বলে।
১৭ জুলাই রাত ১১টা ১৫ মিনিটে চোর মো: ফয়সাল চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি নিয়ে উক্ত স্থানে পৌঁছালে পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ১৮ জুলাই রাত ১২টা ৫ মিনিটে একই স্থান থেকে সহযোগী জাহাঙ্গীর আলমকে আরেকটি হিরো গ্ল্যামার (১২৫ সিসি) লাল রঙের চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে মাইজদী শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও বিক্রির সাথে জড়িত। গ্রেফতারকৃত মো: ফয়সালের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন থানায় ১০টি এবং জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ২টি চুরি মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত দুটি মোটরসাইকেলের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় ৩৭৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।