মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সিএনজিচালক মো. কামাল উদ্দিন (ওরফে সিএনজি কামাল)কে ঘিরে এবার ভাড়া সিন্ডিকেট, যাত্রী হয়রানি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরবাটা খাসের হাট রাস্তার মাথা থেকে সোনাপুর পর্যন্ত সিএনজির নির্ধারিত ভাড়া ৭০ টাকা হলেও ঈদের সময় ৮০ টাকা চালু করার পর এখনও সেই অতিরিক্ত ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কামাল ও তার সহযোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে কোনো চালক নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে পারেন না। কেউ কম ভাড়ায় যাত্রী নিতে চাইলে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি চলন্ত অন্য রুটের সিএনজিতে খালি আসন থাকলেও যাত্রী উঠতে দেওয়া হয় না। ফলে প্রায়ই যাত্রীদের হয়রানি, চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীরা জানান, জরুরি প্রয়োজনে জেলা শহরে যাতায়াতেও অনেক যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় হওয়া চাঁদার একটি অংশও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খাসেরহাট রাস্তার মাথার সিএনজি স্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অন্য চালকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার কামালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পাশাপাশি ভাড়া সিন্ডিকেট ও যাত্রী। উল্লেখ্য, কামাল বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মোটরচালক দলের চলমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে উদ্বেগে পড়েন। এছাড়া রাতের বেলায় এই রুটে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের পেছনেও একই সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য, একজন শিক্ষকের বাসায় প্রাইভেট পড়তে আসা একজন শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো দেখার কথা থাকলেও, সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করে এমন জঘন্য অপরাধের অভিযোগ সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি গোপন রাখতে ভুক্তভোগীকে ৫০০ টাকা দিয়ে কাউকে কিছু না বলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের আরও দাবি, সিএনজি চালক হলেও রাজনৈতিক ও সংগঠনগত পরিচয়ের কারণে কামালের প্রভাব ছিল। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বা তাকে সতর্ক করা হয়নি।
বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিএনজি চালকও জানান, সিন্ডিকেটের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন এবং নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতে গেলেও নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।