মোঃ জুয়েল হোসাইন,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবানে করলিয়া প্রকল্পের চারা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশানের বিরুদ্ধে। ফলে চারা বিতরণে অনিয়ম এবং দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিতরণকৃত চারাগুলো অপ্রাপ্ত বয়স ও ছোট চারা হওয়ায় রোপনের দুইদিন পর চারা মারা যায়। তার পাশাপাশি বিতরণকৃত চারা গুলোর মধ্যে ভালো চারা তেমন নেই। চারা বিতরণের সময় করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশানকে ছাড়া আর কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
রেইছার সাতকমল পাড়ায় গিয়ে কথা হয় গোপা তঞ্চঙ্গ্যার সাথে তিনি বলেন, আমাদের পাড়ায় মোট ২৫টি পরিবার জন্য জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান ১৫০টি চারা এসে দিয়ে যায়। ১৫০টি চারা ২৫টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করে প্রত্যেক পরিবার ৬টি করে চারা আমরা পাই।
দুংখি মার্মা পাড়ার উপকারভোগীরা বলেন, ইউএনডিপির করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান নিজে এসে ২৫টি পরিবারের মাঝে ২০০টি চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত চারাগুলোর মধ্যে ছিল নারিকেল, জাম্বুরা ও পেয়ারা চারা। তবে তেমন কোনো ভালো চারা বিতরণ করেনি। নারিকেল চারা খুব ছোট হওয়ায় রোপনের কয়েকদিন পর চারা মারা যায়।
মেঘলা পর্যটন পাড়া ও তালুকদার পাড়ার উপকারভোগীরা বলেন, দুই পাড়ায় মোট ৫০ পরিবারের মধ্যে বেশিরভাগই উপকারভোগীরা চারা পাইনি। জেলা কর্মকর্তা তার পছন্দের উপকারভোগীকে বাড়তি চারা বিতরণ করে থাকে।
বান্দরবান জেলা পরিষদ স্কুল এন্ড কলেজে ৬৫০ টি চারা বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন করলিয়া প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। সেখানে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ২০০টি চারা খালি মাঠে রাখা হয়েছে যেটি বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে।
রামজাদি এলাকার এক উপকারভোগী বলেন, স্কুল মাঠে রোদে রেখে চারাগুলো নষ্ট না করে উপকারভোগী কাউকে দিলে অনেক উপকার হত। চারা বিতরণ প্রকল্পের অর্থের অপচয় ও নিম্নমানের চারা কেনা এবং অতিরিক্ত মূল্য দেখানো।
এদিকে লামা ও আলীকদম উপজেলায় প্রত্যেক উপকারভোগীকে সর্বোচ্চ ১০টি চারা সর্বনিম্ন ৭টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় প্রত্যেক প্রত্যেক উপকারভোগীকে সর্বোচ্চ ১২টি চারা সর্বনিম্ন ৮টি চারা বিতরণ করা হয়। শুধু বান্দরবান সদরে উপকারভোগীদের কম ছাড়া বিতরণ করেন ইউএনডিপির করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান।
করলিয়া প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা শহীদ নেওয়াজ নিশান বলেন, কোন তথ্য প্রয়োজন হলে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তথ্য চাইতে পারেন।
এ বিষয়ে ইউএনডিপির জেলা কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিশ্লেষক খুশী রায় ত্রিপুরাকে মুঠোফানে ও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে তিনি রিসিভ করেননি।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থামজামা লুসাই বলেন, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।