মোঃ জমির হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
যশোর জেলার শার্শায় ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ ২০২৬ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের শহীদদের স্মরণে দিনটি উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার(৫ আগষ্ট) সকালে শার্শা উপজেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। প্রথমে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৮৫/১ (শার্শা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আজিজুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিয়াজ মাখদুম।
আলোচনা সভায় বিশেষ ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন: শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান লিটন,উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু,জামায়াতে ইসলামীর শার্শা উপজেলা আমির তৈমুর রহমান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল( নাভারণ) মো. আরিফ হোসেন শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন,বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান, বেনাপোল পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মফিজুর রহমান বাবু,বেনাপোল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ওমর ফারুক,শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন ও সদস্য সচিব সবুজ হোসেন খান,শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাইমিনুল সাগর,বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহম্মেদ শাওন ও এনসিপি নেতা আকাশ হোসেন সহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল ভেঙে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যেসকল তরুণ ও সাধারণ মানুষ নিজেদের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন, জাতি চিরকাল তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” বক্তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। শহীদদের এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।”
অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিশেষে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।