মমিনুল ইসলাম, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি।।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেশের জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ১৫৩ আসনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করেছিল। এছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় নির্বাচনী এলাকায় আসলে তাকে ও তার নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ঘেরাও করে রাখা হতো, ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হতো না। এগুলোই ছিল শেখ হাসিনা আমলের প্রহসনমূলক নির্বাচনের নমুনা।
তার নির্বাচনী এলাকায় সফরে এসে ১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার) তজুমদ্দিন উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটপাট করেছে। বিদেশ থেকে আসা সব সহায়তা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বর্তমানে তাদের দোসররা জেলে থাকলেও এখনো জনগণের কাঙ্ক্ষিত বিচার প্রক্রিয়া পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়নি। অথচ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী অন্যায় ও অবিচারের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়।
নিজের ব্যস্ততা ও এলাকার উন্নয়নের স্মৃতিচারণ করে মেজর হাফিজ বলেন, স্পিকারের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংবিধানিক নানা কাজে দেশের বাইরে ও ঢাকায় ব্যস্ত থাকতে হয়। যে কারণে আগের মতো নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় আসা হয় না। তবে তিন মাস আগে এলেও তিনি সবসময় লালমোহন ও তজুমদ্দিনের মানুষের খোঁজখবর রাখেন।
তজুমদ্দিনের উন্নয়নের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় তজুমদ্দিন একটি অবহেলিত জনপদ ছিল। কুঞ্জের হাট পর্যন্ত রাস্তাটি কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে প্রচণ্ড কাদা ও দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ১৯৯৩ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া তজুমদ্দিনে এলে তার কাছে প্রধান দাবি ছিল এই রাস্তাটি পাকাকরণের। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জনগণের সেই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে রাস্তাটি পাকা করে দিয়েছিলেন।
তজুমদ্দি উপজেলাকে পৌরসভায় রুপান্তর করার আশ্বাস দেন তিনি। তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর পরিচালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পাটোয়ারী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদর রহমান, ভোলা জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সিয়াস উদ্দিন হাওলাদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পাঞ্চায়েত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, আব্দুল গফুর, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হাওলাদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফ সিকদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।