এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত ১৭১ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন থানায় মোট ২৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে মুচলেকা নিয়ে ১৬০ জন কিশোরকে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে প্যানাল কোডের ৩৪ ধারা ও নিয়মিত মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন থানায় পরিচালিত কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের আইনের আওতায় এনে কাউন্সেলিং করা হয়। পরেসুধারাম মডেল থানায় ২৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর। হাতিয়া থানায় ২৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর।
কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং ৩৪ ধারায় ৪ জন ও নিয়মিত মামলায় ১ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা। বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ২০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর। সেনবাগ থানায় ২১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর।
চাটখিল থানায় ৮ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর। চরজব্বর থানায় ১০ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর।সোনাইমুড়ী থানায় ২২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং ৩৪ ধারায় ৩ জন ও নিয়মিত মামলায় ৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা। কবিরহাট থানায় ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এনএম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছে, কিশোরদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই প্রয়াস ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।