এ আর আজাদ সোহেল, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে ইতালি প্রবাসী ইকবাল হোসেনের বসতঘরে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে নোয়াখালীর ১ নম্বর আমলি আদালতে নালিশি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট বিকেল চারটার দিকে জামালপুর গ্রামের সেকান্দর হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর ছোট ছেলে ইতালি প্রবাসী ইকবাল হোসেনের বসতঘরে এ হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার দিন বিকেলে ফারহা কানিজ একটি কক্ষে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে অবস্থান করছিলেন। তাঁকে দরজা খোলার জন্য বলা হলেও তিনি দরজা খোলেননি। পরে তার পিতা-মাতা ভাই বোন আত্মীয়-স্বজন আসার পর তাদের উপস্থিতিতে সে দরজা খোলে । বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার সহ সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ সালিস বৈঠক বসলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার পর আসামিরা বসতঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার থেকে জমি কেনার জন্য রাখা ২ লাখ টাকা, একটি আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মুঠোফোন, স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে যান। এ ছাড়া চেয়ার, টেবিল, শোকেস, আলমারি ও ৪৮ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুর করা হয়। সব মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাদীপক্ষের দাবি।
শোরচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করেন। তাঁদের মধ্যে একজন সাক্ষীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
ঘটনার পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বললে তাঁরা হত্যা ও গুরুতর জখমের হুমকি দেন। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় এজাহার দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে বাদীপক্ষের দাবি। পরে তারা আদালতে নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন । আদালত সুধারাম মডেল থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।