Tuesday , 10 February 2026

হাতিয়া প্রেসক্লাবের স্বঘোষিত কমিটির ওপর আদালতের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা

॥ আরজু আক্তার, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নো য়াখালীর হাতিয়া প্রেসক্লাবের স্বঘোষিত কমিটির কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। নির্বাচিত কমিটির দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, হাতিয়া এই আদেশ দেন।

শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো প্রকার বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে—এ মর্মে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

হাতিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি মো. ফিরোজ উদ্দিনসহ (গং) বাদী হয়ে জি এম ইব্রাহিমসহ (গং) বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন।

সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, হাতিয়া, নোয়াখালীর দেওয়ানি মামলা নং–০৯/২০২৬ অনুযায়ী, বাদীপক্ষ হলফনামাসহ দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারার আওতায় দরখাস্ত দাখিল করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত ১ থেকে ১০ নম্বর বিবাদী—জি এম ইব্রাহিম, এম. সাখাওয়াত হোসেন, কামরুজ্জামান আজিম ও কেফায়েত উল্লাসহ অন্যদের—বাদীদের (মো. ফিরোজ উদ্দিন, ছায়েদ আহামেদ, শামীমুজ্জামান ও ছাইফুল ইসলাম) শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো প্রকার বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে—এ মর্মে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীপক্ষের ১, ২ ও ৪ নম্বর বিবাদী আপত্তি দাখিলের জন্য সময় প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত আপত্তি দাখিল না করা পর্যন্ত বিবাদীপক্ষকে তফসিলভুক্ত বিষয়ে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে হাতিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মো. ফিরোজ উদ্দিন সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে নির্বাচনের চার-পাঁচ মাস পার হলেও পূর্বের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ও মামলার ১ নম্বর বিবাদী জি এম ইব্রাহিম প্রেসক্লাবের হিসাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হস্তান্তর না করে গায়েব করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এছাড়া তিনি নিজেকে স্বঘোষিত কমিটির সভাপতি দাবি করে বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালতে পরিচয় দিয়ে সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। ওই স্বঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. সাখাওয়াত হোসেন। একই কমিটিতে ছিলেন আরেক সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান আজিম এবং নির্বাচন অফিসের আউটসোর্সিং কর্মচারী কেফায়েত উল্লাহ (বর্তমানে চাকরিচ্যুত)।

আদালতের এ আদেশকে কেন্দ্র করে হাতিয়া প্রেসক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

Check Also

ভোট দিতে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন ভোটাররা উল্লাপাড়া–সলঙ্গা আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ

॥  আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া  ( সিরাজগঞ্জ)  প্রতিনিধি ॥ ত্র য়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে …