
॥ মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥
মু ক্ত আকাশের সেই পরিচ্ছন্নকর্মী আবারও ডানা মেলল অরণ্যের নীলে। আহত শকুনটিকে দীর্ঘ এক মাস সেবার পর সুস্থ হয়ে অবশেষে সুন্দরবনের অবমুক্ত করা হলে আবারও আকাশে ফিরেছে উদ্ধার হওয়া আহত শকুনটি। (১১ মার্চ) বিকালে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র সংলগ্ন বনাঞ্চলে পাখিটিকে অবমুক্ত করা হয়।
শকুনের দৃষ্টিশক্তি অবিশ্বাস্য। একটি সুস্থ শকুন আকাশ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতায় উড়েও ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু বা মৃতদেহ নিখুঁতভাবে দেখতে পায়। গবাদি পশুর মৃতদেহ খেয়ে পরিবেশকে রোগমুক্ত রাখতে এদের কোনো বিকল্প নেই।
ঠিক এক মাস আগে খুলনা থেকে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মাহা বিপন্ন প্রায় শকুনটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওড়ার ক্ষমতা হারিয়ে পাখিটি তখন মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। সেখান থেকে উদ্ধারের পর বন বিভাগের বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা সেটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শকুনটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে আজ সেটিকে বনে অবমুক্ত করে।
করমজলের ভারপ্রাপ্ত হাওলাদার আজাদ কবির জানান, প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত শকুন আজ বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানে বাংলাদেশে মূলত দুটি এলাকায় শকুনের বিচরণ বেশি দেখা যায়, একটি হলো মৌলভীবাজারের রেমা-কালেঙ্গা এবং অন্যটি সুন্দরবনের করমজল এলাকা।
তিনি আরো জানান, শকুনের দৃষ্টিশক্তি অবিশ্বাস্য। একটি সুস্থ শকুন আকাশ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতায় উড়েও ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু বা মৃতদেহ নিখুঁতভাবে দেখতে পায়। গবাদি পশুর মৃতদেহ খেয়ে পরিবেশকে রোগমুক্ত রাখতে এদের কোনো বিকল্প নেই। বন কর্মকর্তা আরো জানান, সুন্দরবনের এই শান্ত পরিবেশে শকুনটি তার আপন ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষার বার্তা আরও জোরালো হলো। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই বিরল প্রজাতির পাখিগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে জানান তিনি।
global sangbad 24 অনলাইন নিউজ পোর্টাল
