॥ মো. রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি ॥
নো য়াখালীর সুবর্ণচরে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবুল খায়ের মুন্সি ওরফে ‘মুন্সিয়া চোরা’কে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে।
বিএনপির সাবেক সভাপতি অলি উদ্দিন সেলিম বলেন, “কে বা কারা আবুল খায়ের মুন্সিকে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় এনেছে, আমি জানি না। তবে তার মতো চিহ্নিত অপরাধী ও আওয়ামী লীগ নেতা যদি বিএনপির হয়ে প্রচারণা চালায়, তাহলে সাধারণ ভোটাররা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল আমিন বাজারে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে তার উপস্থিতির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা ও জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে আল আমিন বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রচারণা বিষয়ে আলোচনা করছিলেন চরওয়াপদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের মুন্সি। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি কর্মী গোপনে তার ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের এই বিতর্কিত নেতার আকস্মিক বিএনপি ঘনিষ্ঠতায় খোদ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক নেতাকর্মী দাবি করছেন, কোনো অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তাকে প্রচারণায় যুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে, যা দলকে চরমভাবে বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন করতে পারে। এ বিষয়ে চরওয়াপদা ইউনিয়ন যুবদল নেতা আরেজ খান বলেন, “এটা আমাদের দলের আরেকটি অংশ কর্তৃক হয়েছে এবং আমি নিজেও এ ব্যাপারে অবগত ছিলাম না। যারা করেছে তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।” চরওয়াপদা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি অলি উদ্দিন সেলিম বলেন, “কে বা কারা আবুল খায়ের মুন্সিকে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় এনেছে, আমি জানি না। তবে তার মতো চিহ্নিত অপরাধী ও আওয়ামী লীগ নেতা যদি বিএনপির হয়ে প্রচারণা চালায়, তাহলে সাধারণ ভোটাররা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।”
অভিযুক্ত আবুল খায়ের মুন্সির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে নির্বাচনী কার্যালয়ে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের থেকেও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানায়, আবুল খায়ের মুন্সি সুবর্ণচরের আলোচিত মা-মেয়ে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন এবং এলাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনের রাতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার সুবর্ণচরের সেই নারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে, ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালীর সুবর্ণচরকে পৌরসভা ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত ৩০ জানুয়ারি নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
global sangbad 24 অনলাইন নিউজ পোর্টাল