॥ মোঃ মাসুদ রানা, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥
সি রাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ক্রমেই ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় এমএসএফ বাস্তবায়িত ‘এমপাওয়ারহার (EmpowerHer)’ প্রকল্পের আওতায় রায়গঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ইনসেপশন মিটিং, মাসিক সভা, ওয়ার্কশপ, ওরিয়েন্টেশন, পিয়ার লার্নিং সেশন, লিগ্যাল এইড মিটিং, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কার্যক্রম ও মিডিয়েশন সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট ইউনিয়ন জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ) গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এমএসএফ-এর উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর সন্ধ্যা ফার্ডি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে যৌন হয়রানি, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি এখনও উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান।
লিখিত বক্তব্যে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রায়গঞ্জ উপজেলায় মোট ১৫৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ৬টি, ধর্ষণের মামলা ২টি এবং হত্যাকাণ্ডের মামলা ৪টি। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে দেউয়ানি মামলার আবেদন করা হয়েছে ১৭২টি, যার মধ্যে ১৩৪টি মীমাংসা হয়েছে। ফৌজদারি মামলার আবেদন ২৯৪টি হলেও মীমাংসা হয়েছে মাত্র ২৮টি। এছাড়া পারিবারিক মামলার আবেদন করা হয়েছে ৩৫টি, যার মধ্যে ২৯টি নিষ্পত্তি হয়েছে।
বক্তব্যে আরও জানানো হয়, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পারিবারিক মামলায় ১৫ জন নারী ও ২১ জন পুরুষ, ফৌজদারি মামলায় ১৩ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু এবং দেউয়ানি মামলায় ১৩ জন নারী ও ১৭ জন পুরুষ আইনি সহায়তা পেয়েছেন। একই সময়ে ২৫৩ জন নারী ও ৩০৪ জন পুরুষ আইনি পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। সন্ধ্যা ফার্ডি বলেন, স্থানীয় কমিউনিটি ও এমএসএফ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে রায়গঞ্জ উপজেলায় ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের অন্তত ৪০টি ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এখন একটি গুরুতর সামাজিক সংকট।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় এমএসএফ বাস্তবায়িত ‘এমপাওয়ারহার (EmpowerHer)’ প্রকল্পের আওতায় রায়গঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ইনসেপশন মিটিং, মাসিক সভা, ওয়ার্কশপ, ওরিয়েন্টেশন, পিয়ার লার্নিং সেশন, লিগ্যাল এইড মিটিং, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কার্যক্রম ও মিডিয়েশন সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট ইউনিয়ন জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ফোরাম (ইউজিইএফ) গঠন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি এসএম নজরুল ইসলাম ও মীর রফিকুল ইসলাম রতি, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ একটি সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব। পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্বের জায়গায় নিয়ে আসতে পারলেই টেকসই পরিবর্তন সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বাস্তবায়িত ‘এমপাওয়ারহার’ প্রকল্পটি সিরাজগঞ্জসহ দেশের ৯টি জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০২৫–২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান থাকবে
global sangbad 24 অনলাইন নিউজ পোর্টাল