॥ আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥
সি রাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মরদেহ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন সনাতনী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ। নিহত মিনা বনিক উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিড়া গ্রামের স্বর্গীয় গণেশ বনিকের স্ত্রী।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে সৎকারে বাধা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে মরদেহ সৎকার করতে গেলে ঘোষগাঁতী গ্রামের বাবলু ভৌমিক বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং সৎকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে ক্ষুব্ধ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মরদেহ নিয়ে উপজেলা পরিষদে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন সৎকারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে সৎকারে বাধা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বাবলু ভৌমিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গতকাল রাতে ঝিকিড়া মহল্লায় একজন মারা যান। তখন জানানো হয় মরদেহটি উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে সৎকার করা হবে। আমাকে মহাশ্মশানের চাবি চাইলে আমি জানাই, চাবি আমার কাছে নেই।”
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরফি বলেন, “আজ সকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা নারী মারা যান। পরে মরদেহ সৎকারের জন্য মহাশ্মশানের চাবি চাওয়া হলে বাবলু ভৌমিক তা না দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে চাবির ব্যবস্থা করা হয়।” তিনি আরও বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের আগে শ্মশানটির নাম ছিল ‘উল্লাপাড়া মহাশ্মশান’। বর্তমানে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ঘোষগাঁতী হিন্দু মহাশ্মশান’ করা হয়েছে। নামকরণকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
global sangbad 24 অনলাইন নিউজ পোর্টাল