
॥ সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ॥
ঋ তুরাজ বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরার গাছগুলো মুকুলে ভরে উঠেছে। জেলার গ্রামাঞ্চল, পুকুরপাড়, রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙিনার আমগাছগুলো এখন মুকুলে সেজে উঠেছে। চারদিকে ছড়িয়ে গেছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, যা দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমচাষিদের মুখে ফুটেছে আশা ও আনন্দ।
গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৭০,৮৮০ মেট্রিক টন, চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০,৯০০ মেট্রিক টন, যা অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় ছোট-বড় আমবাগান ও বাড়ির আঙিনার গাছে মুকুল এসেছে। বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট আকারের গাছে মুকুল বেশি। সাতক্ষীরায় হিমসাগর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, বোম্বাই, হাড়িভাঙ্গা ও বিভিন্ন স্থানীয় জাতের আম চাষ হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় মোট ৪,১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর ৮৯৯ হেক্টর, আম্রপালি ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর এবং অন্যান্য জাত ১,১৯২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক আবাদ: সাতক্ষীরা সদর ১,২৫০ হেক্টর, কলারোয়া ৬৫৮ হেক্টর, তালা ৭১৫ হেক্টর, দেবহাটা ৩৭০ হেক্টর, কালিগঞ্জ ৮৩৯ হেক্টর, আশাশুনি ১৪৫ হেক্টর ও শ্যামনগর ১৬০ হেক্টর।
গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৭০,৮৮০ মেট্রিক টন, চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০,৯০০ মেট্রিক টন, যা অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
চাষিরা জানিয়েছেন, মুকুল আসার পর থেকেই বাগানের পরিচর্যা জোরদার করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক প্রয়োগ ও পরিচর্যার কাজ চলছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ মো. মনির হোসেন বলেন, “সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আশা করছি, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পাশাপাশি হিমসাগর আমের গুণগত মান ধরে রেখে অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির পরিকল্পনা চলছে।”
বসন্তের শুরুতেই মুকুলে ভরে ওঠা সাতক্ষীরার বাগানগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় বাম্পার আম উৎপাদনের সম্ভাবনা আরও দৃঢ় বলে মনে করছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।
global sangbad 24 অনলাইন নিউজ পোর্টাল
