Wednesday , 7 January 2026

মোংলায় নৌযান ধর্মঘট দুইদিনে পর্যটক ফিরে গেছে প্রায় ১০ হাজার

॥  মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥

মোং লায় নৌযান শ্রমিক মালিকদের বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে অ়ভিযোগ। 

মোংলায় দ্বিতীয় দিনের মত চলছে সুন্দরবনের পর্যটনবাহী জালিবোট, লঞ্চ, ট্রলার ও ডেনিস বোট মালিকদের পর্যটক পরিবহন ধর্মঘট।

দূরদূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আসা পর্যটকদের হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে সরকার হারাবে রাজস্ব আয় আর প্রায় লক্ষাধীক মানুষ কর্মহীন হয়ে পরবে বলে ধারনা বন বিভাগের।

এব্যাপারে পর্যটক ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ করেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। অভিযোগ দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

ডাকা এ ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪শতাধীক নৌযান।পর্যটনবাহীব এ নৌযান ধর্মঘটে সুন্দরবন পর্যটক স্পটগুলোতে শুণ্য হয়ে পড়েছে পর্যটক। দূরদূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আসা পর্যটকদের হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে সরকার হারাবে রাজস্ব আয় আর প্রায় লক্ষাধীক মানুষ কর্মহীন হয়ে পরবে বলে ধারনা বন বিভাগের।

নৌযান সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানায়, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (খুলনা) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত রবিবার মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় হঠাৎ অন্ততঃ অর্ধশতাধীক জালিবোটের উপরে অভিযান চালায়। এসময় বোটের উপরের অংশের অবকাঠামো ভাংচুর করে এবং কেটে সেসকল মালামাল নিয়ে যায়। এতে বোটের সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বসার পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে বলে অভিযোগ শ্রমিক-কর্মচারীদের। তাই ক্ষতিগ্রস্থ বোট মালিকেরা নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এমন কর্মকান্ডের প্রতিবাদে সোমবার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেয় পর্যটক পরিবহনের নৌযান মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। ধর্মঘটের এ দুই দিনের সুন্দরবনে যেতে না পেরে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক ফেরত গেছে।

পর্যটনবাহী নৌযান মালিকদের দাবী, ডিজি শিপিং (নৌপরিবহন অধিদপ্তর) তাদেরকে নানা শর্তের জালে ফেলে অহেতুক হয়রানী করছে। ছোট ছোট এসকল নৌযান ডিজি শিপিংয়ে আওতার বাহিরে। লাইসেন্সের অজুহাত দেখিয়ে এসব নৌযান ডিজি শিপিং নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য বোট মালিকদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ ও হয়রানি করছে।

লাইসেন্সসহ নানা শর্ত মানা বোট মালিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ পুরো বছরে মাত্র তিন মাস পর্যটন মৌসুম। বাকী সময় অলস বসে থাকতে হয়। তাই ৩০/৪০ হাজার টাকা দিয়ে ডিজি শিপিংয়ের বেআইনি শর্ত পূরণ করতে নারাজ শ্রমিক-কর্মচারীরা। যতক্ষন পর্যন্ত তাদের ক্ষতিপুরণ ও ডিজি শিফিংয়ের হয়রানি বনন্ধ না হবে, এ নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানায় তারা।

পুর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটক স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানায়, পর্যটক পরিবহন নৌযান মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তাদের যৌতিকতা রয়েছে। কারন তিন মাস পর্যটক মৌশুম তাই এই সময় পর্যটক বহন করে যা রোজগার করবে তা দিয়ে পুরো বছর চলতে হবে। সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সকল নৌযান মালিকের প্রতিও সহায় হওয়া উচিত।

আবার ডিজি শিপিং যে ব্যাপারে অভিযান চালিয়ে এটারও একটি নিয়োম আছে। কারন দেশ-বিদেশী যে সকল পর্যটক সুন্দরবনে ভ্রমনে আসে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারলে একবারের বেশী সুন্দরবনে আসবে না।

আর এভাবে যদি পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকে তা হলে সুন্দরবনে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাবে, ফরে সরকারী রাজস্বের উপর একটি বড় প্রভাব পরবে। তাই উভয় পক্ষের সমোজতার মাধ্যমে দ্রুত সামাধান চায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Check Also

ঘন কুয়াশায় হাজারো কর্মজীবী নারী পুরুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে মোংলা নদীর খেয়া

॥  মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥ মোং লায় পৌষের প্রচন্ড শীত জেঁকে বসেছে। শীতে …