॥ শাহ আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ॥
সি রাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হামিদ (৮০) মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসুস্থ অবস্থায় অনিচ্ছায় জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে দলিল তৈরি, অপহরণ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তারই মেয়েদের বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে টি.এম. নুর এজাজ এ ঘটনায় অপহরণ, অবৈধ আটক, নির্যাতন এবং জমি আত্মসাতের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বুধবার (৭ আগস্ট২০২৫) বেলা ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীর পুত্র টি.এম. নুর এজাজ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালীবাড়ী মোড় থেকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চারজন ব্যক্তি নিজেদের ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেয়। পরে জানা যায়, তারা একটি বেসরকারি রিহ্যাব সেন্টারের ভাড়া করা লোক, যাদের পেছনে ছিলেন তার আপন বোনেরা এবং তাদের সহযোগী সোহাগ নামের এক ব্যক্তি। পরে তাকে জোরপূর্বক ‘রেনেসাঁ রিহ্যাব সেন্টারে’ আটক রেখে ‘মাদকাসক্ত’ হিসেবে মিথ্যাচার চালানো হয়।
নুর এজাজ জানান, সেন্টারে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একই সময়ে সোহাগ তার স্ত্রী মেহেজাবিন মৌ ও শিশুসন্তানকে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা নিয়ে গিয়ে বড় বোনের বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে এক আত্মীয়ের চল্লিশা অনুষ্ঠানের সুযোগে তার স্ত্রী পালিয়ে তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। দীর্ঘ দুই মাস আটকে রেখে অবশেষে ১৫ মে ঘুষের বিনিময়ে আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তাকে রিহ্যাব থেকে মুক্ত করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে তার বাবার প্রায় ৬ বিঘা পারিবারিক জমি ভুয়া দলিল তৈরি করে আত্মসাৎ করেছেন তার বোনেরা। জমিগুলোর দলিল নম্বর ১২২৮ (২৩.০৩.২০২৫), ১৯৮০ (২৩.০৩.২০২৫) ও ১৯৮১ (২৪.০৩.২০২৫)। এসব জমির বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা বলে দাবি করেন তিনি। নুর এজাজ বলেন, তার বাবাকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, যা তার কাছে ভিডিও প্রমাণ রয়েছে।
এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কোর্টে মামলা করতে গেলে সিরাজগঞ্জ আইনজীবী সমিতি আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসার আশ্বাস দেয়। দুই দফা নোটিশ দিলেও অভিযুক্তরা হাজির হয়নি বরং তদবিরের মাধ্যমে অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এ ঘটনার মূলহোতা সোহাগ ও তার পরিবার বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুর এজাজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাকে র্যাব দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণ, মেসেঞ্জারের বার্তা ও অডিও রেকর্ড তার কাছে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে টি.এম. নুর এজাজ এ ঘটনায় অপহরণ, অবৈধ আটক, নির্যাতন এবং জমি আত্মসাতের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি তার বাবার সম্পত্তি রক্ষায় অবৈধ দলিল বাতিল করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
এসময় আরটিভি ও বাংলাদেশ বেতারের জেলা প্রতিনিধি সাজিরুল ইসলাম সঞ্চয়, দীপ্ত টিভি ও খবরের কাগজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম শিশির, বিজনেস মিরোর ও আলোকিত সকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম, দৈনিক অগ্রসর ও বাংলাদেশ গার্ডিয়ান পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম জয়, দৈনিক চিত্র পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হোসেন আলী ছোট্র, দৈনিক অধিকরণ ও দি ট্রিব্যুনাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানা, দৈনিক জনবানী ও আজকের সিরাজগঞ্জ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সোহান সেখ, ডেইলি তালাশ বিডি. কম শাহ আলম, দৈনিক আমার বাঙলা ও বিজনেস বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মাহবুব চৌধুরী, সকালের সময় ও জয়সাগর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আজিজুর রহমান মুন্নাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার গণ্যমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।