Wednesday , 14 January 2026

উল্লাপাড়ায় পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘রূপসী বাংলা’ সমবায় সমিতি: গ্রাহকদের আহাজারী

॥  আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া প্রতিনিধি ॥

সি রাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বালসাবাড়ি বাজারে ‘রূপসী বাংলা পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সমবায় সমিতি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

সঞ্চয় ও ঋণের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছিল প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে সমিতির অফিস বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টরা পলাতক। প্রতারণার শিকার হয়ে পথে বসেছেন শতাধিক গ্রাহক।

 মো: মারুফ হোসেন যদি ঠিকমতো সমিতিগুলো অডিট বা তদারকি করতো তাহলে এ সমতিগুলোতে তারা প্রতারণা করতে পারতো না । এই “রূপসী বাংলা পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড” প্রতারণার দায়ভার তারা এড়িয়ে যেতে পারেন না।

ভুক্তভোগীরা জানান, সমিতির পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তিতে টাকা জমা দিলে মোটা অঙ্কের মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। প্রথমদিকে কিছু গ্রাহককে সামান্য মুনাফা প্রদান করলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সময় ক্ষেপণের মাধ্যমে টাকা ফেরত না দিয়ে রাতারাতি অফিস তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় সমিতির কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার বালাসাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রুবেল জানান, আমি প্রায় ১০ লক্ষ টাকা জমা রেখেছিলাম। প্রতি মাসে মুনাফার আশায় দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আসল টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখিয়ে ঘোরাতে থাকে। শেষমেশ দেখি অফিসই গায়েব।
মধুপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমি এই সমিতিতে ৩১ লক্ষ টাকা রেখেছি। টাকা ফেরত চাইতে গেলে বলে আজ দিচ্ছি, কাল দিচ্ছি। হঠাৎ একদিন দেখি অফিসে তালা, কেউ নেই। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।

আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বাবলা পাড়ার আল-আমীন, মান্নান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মালেক, হাসান ও মিজান। তারা সবাই এই সমিতির পরিচালক এবং নিয়মিত অফিস চালাতেন। এই ছয়জন কিছু দিন আগেও দিনমজুরি কাজ করছে কিন্তু তাড়া এখন যেন আলাদীনের চেরাগ পেয়েছে হঠাৎ গাড়ি বাড়ি মিল ফ্যাক্টরী করে একেকজন যেন শিল্পপতি হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা আরো বলেন উপজেলা সমবায় অফিসার মো: মারুফ হোসেন যদি ঠিকমতো সমিতিগুলো অডিট বা তদারকি করতো তাহলে এ সমতিগুলোতে তারা প্রতারণা করতে পারতো না । এই “রূপসী বাংলা পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড” প্রতারণার দায়ভার তারা এড়িয়ে যেতে পারেন না।

উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অফিসার মো : মারুফ হোসেন জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। ২০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে প্রতারিত গ্রাহকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও জমানো অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান গ্রামাঞ্চলে এনজিওর নামে প্রতারণা বাড়ছে , সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামের সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এনজিও বা সমবায় সমিতির নামে এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। অর্থনৈতিক সচেতনতার অভাব ও যথাযথ সরকারি তদারকির ঘাটতির কারণে প্রতারকচক্র সহজেই সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে।

ভুক্তভোগীদের প্রশাসনের প্রতি দাবি দ্রুত প্রতারকদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Check Also

উল্লাপাড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কালোজিরা চাষ

॥  আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া  ( সিরাজগঞ্জ)  প্রতিনিধি ॥ সি রাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় …