শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে চর জব্বর ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ফটকে তালা

॥ মো.রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী)   প্রতিনিধি॥

নো ‎ য়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ডিগ্রি কলেজে অতিরিক্ত ফি আদায় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

বুধবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তালা খুলে দেওয়া হয়।

 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৯৯৫ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মানবিক বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৪৩৫ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ২৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চলমান এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রিসিট ছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং একই নম্বরে একাধিক রিসিট দেওয়ার মতো অনিয়মও ঘটছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া পুনরায় ভর্তি বাবদ এক হাজার টাকা নেওয়া এবং নিয়মিত ক্লাস না হওয়ার অভিযোগও তোলেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের সময় তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে স্লোগান দেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “চোরে রান্ধে, চোরে খায়”, “অতিরিক্ত ফি চোরের বিচার চাই”, “অধ্যক্ষ আসে ১২টায়, ক্লাস শুরু কয়টায়?”।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৯৯৫ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে মানবিক বিভাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি ২ হাজার ৪৩৫ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার ২৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলু, গভর্নিং বডির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বোর্ড নির্ধারিত ফি অনুযায়ী বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৯৯৫ টাকা এবং মানবিক বিভাগে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা নেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি যাচাই করা হবে।

কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে ফি আদায় করা হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সিরাজ হায়দার বেলাল বলেন, কলেজটি প্রতিষ্ঠার ৩২ বছরেও কোনো ভালো অডিট হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের অডিটের দাবিটি যৌক্তিক।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ জামসেদুর রহমান কিসলু বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীরা জানান, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবেন।

Check Also

সুবর্ণচর উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবনির্বাচিত এমপি মো. শাহজাহানের মতবিনিময় সভা

॥ মো.রেদওয়ান হোসেন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী)   প্রতিনিধি॥ নো ‎ য়াখালী-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও …

Advertisement