
॥ মাসুদ রানা, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ॥
মোং লা উপজেলার দিগরাজ বাজুয়া রোড এলাকায় দিনদুপুরে এক লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত কায়দায় বসতবাড়ি দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মোংলা বুড়িরডাঙ্গা ও দ্বিগরাজের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই দখল মিশন পরিচালিত হয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে। ভ’মীদস্যু ওই সকল সন্ত্রাসীরা বাড়ি ভাঙচুরের পর সেখানে জোরপূর্বক নিজেদের মালিকানার সাইন বোর্ড পুতে দেয়।
দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১৮-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্য ভিটেমাটিতে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। প্রতিবাদ ও বাধা দেওয়ায় রক্তাক্ত জখম হয়েছেন এক তরুণ। এই নজিরবিহীন ভূমিদস্যুতার নেপথ্যে স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালীদের সরাসরি মদদ ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে থানা পুলিশকে দিলে সাথে সাথে পুলিশ এসে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে ভুক্তভোগীর রক্ষা করে। এব্যাপারে মোংলা থানায় ও আদালতে মামলা দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে ওমর আলী, হায়দার আলী, শওকত আলী, তারেক ও মেহদীর নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী দা, কুড়াল, হাতুড়ি, লোহার রড ও শাবল নিয়ে আওলাদ হোসেনের বসতবাড়িতে ডুকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শুরু করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের তান্ডব। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাঁধা দিতে গেলে আওলাদ হোসেনের ছেলে তানিম আশরাফিকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। আওলাদের পরিবারের সদস্যদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেন জানান, অনুমান ২০১০ সালে অনুপ অধিকারী নামের জনৈক এক ব্যাক্তির কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে তিনি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে গত ১৭ বছর ধরে বসবাস করছেন। অন্যদিকে, শওকত আলী গং জনৈক শহিদুল হক নামক এক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে একটি দলিল তৈরি করে মালিকানা দাবি করে আসছে। এই নিয়ে বাগেরহাট আদালতে মামলা হলে আদালত মামলাটি মোংলা উপজেলা পরিষদকে তদন্তর করে মিমাংশা করে দেয়ার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। তৎকালীন তদন্তে শওকত আলীদের দলিলটি ‘ভুয়া ও জাল’ প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ভূমিদস্যু এ চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ওই জমি দখলে নেয়ার জন্য পায়তারা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, মোংলা বুড়িরডাঙ্গা ও দ্বিগরাজের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই দখল মিশন পরিচালিত হয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে। ভ’মীদস্যু ওই সকল সন্ত্রাসীরা বাড়ি ভাঙচুরের পর সেখানে জোরপূর্বক নিজেদের মালিকানার সাইন বোর্ড পুতে দেয়। যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে বলে, এলাকায় থাকতে হলে মুখ বন্ধ রাখতে হবে, নাহলে সবাইকে মেরে লাশ গুম করা হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে।
ঘটনার পর পরই দ্রুত মোংলা থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং পুলিশের উপস্থিতি দেখে সন্ত্রাসীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরে মোংলা থানায় মামলা দাখিল করা হয়। থানায় মামলা দেয়ায় কারণে সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আওলাদ হোসেন’র ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা গতকাল আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও দখলের ঘটনা আইনি শাসনের চরম লঙ্ঘন। যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষের জমি দখল করছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এসকল সন্ত্রাসী এলাকায় আরো বহু অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে।
এ ঘটনা নিয়ে ওমর আলী ও সওকাত আলী পাটওয়ারীর সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোংলা থানার ওসি তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, দ্বিগরাজ এলাকায় বাড়ি ঘর দখলে নেয়ার চেষ্টা, মারধর ও বাড়িতে জোর পুর্বক সাইন বোড টানিয়ে দেয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফকতারে অভিযান চলছে। এছাড়া এ ঘটনা নিয়ে আর যেন কোন অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
global sangbad 24 অনলাইন নিউজ পোর্টাল
